খুবিতে নুন্যতম শতকরা ৯০ভাগ ক্রেডিট অর্জন করতে পারলে শিক্ষার্থীকে প্রদান করা হবে শুধু পাস সার্টিফিকেট

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সকল শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার পর স্বাস্থ্যগত বা অন্যকোনো যৌক্তিক কারণে নির্দিষ্ট কোর্স মেয়াদে অভীষ্ট ক্রেডিট অর্জন করে সিজিপিএ হিসেবে অনার্স ডিগ্রি লাভ করতে পারছে না তারা যদি অন্তত নুন্যতম শতকরা ৯০ভাগ ক্রেডিট অর্জন করতে পারে তবে তাদেরকে শুধু পাস সনদ দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বস্তুত ভর্তির পর স্বাস্থ্যগত এবং অন্যান্য কিছু কারণে অনেক শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট শিক্ষামেয়াদে নির্দিষ্ট সর্বনিম্ন ক্রেডিট অর্জনে ব্যর্থ হলে তাদেরকে খালি হাতেই বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করতে হয় এবং পরবর্তী জীবনে তাদের ভর্তির যেমন সুযোগ থাকে না, তেমনি বিনা সনদে কোনো কর্মসংস্থান করার মতো সুযোগও থাকে না।

ওইসব শিক্ষার্থীর এরূপ অবস্থায় অভিভাবকসহ পুরো পরিবার হতাশায় নিমজ্জিত হয়। বিষয়টি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান একাডেমিক কাউন্সিলের গত ৬ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ১৬৩তম সভায় উপস্থাপন করলে কাউন্সিল মানবিক দিক বিবেচনা করে অন্তত শতকরা ৯০ভাগ ক্রেডিট অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের শুধু পাস সনদ দেওয়ার ব্যাপারে নিয়মানুয়ায়ী সিন্ডিকেট সভায় সুপারিশ করে।

সে প্রেক্ষিতে গত ১২ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ১৯৯তম সভায় একাডেমিক কাউন্সিলের ওই সুপারিশ সর্বসম্মতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে আজ ২৮ এপ্রিল রেজিষ্ট্রার অফিস থেকে এ সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিষয়টি সিন্ডিকেট সভার তারিখ গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে বলে ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষ থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হওয়ার দীর্ঘপ্রায় তিন দশকের মধ্যে এ ধরনের মানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। এর ফলে পাস সনদধারী শিক্ষার্থীরা যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কিছু করার সুযোগ পাবে। সিন্ডিকেট সভার সভাপতি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান এ ব্যাপারে বলেন খুব অল্প ক্রেডিট অর্জনের অভাবে ৭-৮বছর লেখাপড়া করেও অনেক শিক্ষার্থী যখন খালি হাতে বিদায় হয় তখন তার এবং অভিভাবকের কান্নায় ভেঙ্গে পড়ার অনেক দৃশ্যই আমাদের দেখতে হয়।

এ ধরনের ঘটনায় অনেক পদস্থ ব্যক্তিরা ওই শিক্ষার্থীর মানবিক দিক বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করে থাকেন। এমনকি অনেক শিক্ষার্থী পাওয়া যায় যারা বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা অনেকে আর্থিকভাবে খুবই অস্বচ্ছল পরিবারের সন্তান। কিন্তু সিন্ডিকেট সভায় কোনো সিদ্ধান্ত না থাকায় বা শিক্ষা অধ্যাদেশে বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত না থাকায় এ পর্যন্ত এ ধরনের কোনো মানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন আমাদেরকে সবক্ষেত্রে বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর এখানে শিক্ষাকার্যক্রমের প্রতিটিদিকে পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রতিপালনের মাধ্যমে অভীষ্ট ক্রেডিট অর্জন করতে পারলেই সিজিপিএ অনুয়ায়ী অনার্স ডিগ্রি দেওয়া হয়। যদিও এখানে একমাত্র স্থাপত্য ডিসিপ্লিনে নির্দিষ্ট কোর্স ৮বছরের মধ্যে শেষ করতে হয়। তবে সেখানে ২০০ক্রেডিট অর্জন করতে হয়। অন্যান্য স্কুলে এই ক্রেডিট ১৬০-১৩৬ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ এবং শিক্ষাকোর্সের সময়সীমা ৭বছর।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত মানবিক এবং যুগান্তকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক। তিনি বলেন তার সন্তান মাত্র আর তিন ক্রেডিট অর্জনের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭বছর লেখাপড়া করে খালি হাতে বের হওয়ার উপক্রম হয়েছিলো। ফলে তাদের পুরো পরিবার হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছিলো। ওই সন্তানটি শেষে জটিল নিউরো কেসে ভুগেছিলো। যে কারণে সে ভালো করতে পারেনি।

তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ মানিবক সিদ্ধান্তে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার(ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের আলোকে বিজ্ঞপ্তি জারির কথা জানিয়েছেন এবং শিক্ষার্থীসহ সবার মধ্যে অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া পড়েছে বলে উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, বিশ্বের অনেক উন্নত ও প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের সনদপত্র দেওয়ার বিধান চালু রয়েছে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *