গুম-খুনের সঙ্গে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকজনও জড়িত — রুহুল কবির রিজভী

গুম-খুনের সঙ্গে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকজনও জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রয়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকার গত এক দশকের বেশী সময় ধরে জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে। শেখ হাসিনার চোখে চিরকালীন প্রধানমন্ত্রী থাকার স্বপ্ন। ক্ষমতার পৌষ মাস যাতে কোনদিনই শেষ না হয়, সেই নীতি অবলম্বন করেই দেশ চালাচ্ছেন তিনি। আর সেজন্য নিজেদের ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য বিরোধীদল ও মতকে দমন করতে এমন কোন বর্বর ও নির্দয় পন্থা নেই, যা করছেন না। আইনশঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোন সংগঠন প্রকাশ্যে কিংবা তাদের গোপন সংস্থাগুলোর মাধ্যমে এই গুম-খুন করা হচ্ছে। এই গুম-খুনের সঙ্গে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকজনও জড়িত বলে তথ্য-প্রমাণসহ বিদেশী সংবাদ মাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, নিজেদের ব্যবসায়িক কারণেও গুম করা হচ্ছে মানুষকে। কোন মানুষেরই জীবনের নিরাপত্তা নেই। ঘর থেকে বেরুলে তিনি আবার ঘরে ফিরতে পারবেন কি না তার কোন গ্যারান্টি নেই। কারন সরকারের গোপন সংস্থার লোকজন ওৎ পেতে আছে। খবরের কাগজ খুললেই গুম অত:পর ক্রসফায়ার বা বেওয়ারিশ লাশের খবর। সেন্সরশীপের পরেও প্রায় প্রতিদিনই গণমাধ্যমে আসছে। আর এসব খবরে সারাজাতি আতঙ্কিত ও স্তম্ভিত।

রিজভী বলেন, বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার ইনভেষ্টিগেটিভ ইউনিট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টার বিরুদ্ধে তিনজনকে গুম করার অভিযোগ উঠেছে। প্রচ্ছায়া লিমিটেডের ৩ কর্মচারীকে আইনের অপব্যবহার করে তুলে নিয়ে গুম করা হয়েছে। সম্প্রতি এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাংলাদেশে আলজাজিরা ব্লক করে দিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ থেকে এখন আর তাদের ওয়েব সাইটটিতে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। এর মাধ্যমে সরকার আবারও প্রামণ করলো সত্যকে গলা টিপে রাখতে চায় তারা। বাকশাল পুণ:প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে গণমাধ্যমকে হত্যা করছে তারা। শুধুমাত্র সত্য প্রকাশের কারণে চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টিভি, ইসলামী টিভি, পিস টিভি বন্ধ করে দিয়েছে। ‘আমার দেশ’সহ বহু প্রিন্ট মিডিয়া বন্ধ করা হয়েছে। স্বৈরাচার দীর্ঘায়িত হলে নাৎসীবাদের উত্তরণ ঘটে। এ সরকারও নাৎসীবাদের উপাসক। ক্ষমতাসীনরাই যদি নিজেদের স্বার্থের কারণে মানুষকে অদৃশ্য করে তাহলে মনুষ্যত্বহীনতার এই ভয়ঙ্কর মূর্তি দেখে সাধারণ মানুষ কি বেঁচে থাকার কোন রাস্তা খুঁজে পাবে ? ক্ষমতাশালী ব্যক্তিরাই যদি সহজাত বিচার-বুদ্ধি হারিয়ে গুম-খুনের সওদাগরীতে মেতে থাকে তাহলে মানবাধিকারের আর্তনাদ ছাড়া আর কিছুই শোনা যাবে না-যা সভ্য সমাজে অনভিপ্রেত।

বিএনপির এই নেতা বলেন, বিরোধী দলবিহীন একতরফা নির্বাচন, মিডনাইট নির্বাচন ইত্যাদির সাফল্যে আত্মহারা হওয়ার জন্যই শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টার মতোই ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের মাথায় আঁধার নেমেছে। আর এজন্যই তারা গুম-খুনের খেলায় বেপরোয়া ভাব দেখাচ্ছে। অবৈধ ক্ষমতার অহঙ্কার মানুষকে বিবেকশুন্য করে তোলে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, নজমুল হক নান্নু, প্রশিক্ষণ সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, সহ দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন প্রমুখ।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *