বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধকালীন সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন: উপাচার্য

মুক্তিযুদ্ধকালীন সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা: ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে চলমান বিচার প্রক্রিয়া শীর্ষক খুবিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন করে বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধকালীন সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন: উপাচার্য

আজ ২৫ এপ্রিল বিকেল ৩ টায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে ‘মুক্তিযুদ্ধকালীন সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা: ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে চলমান বিচার প্রক্রিয়া’ শীর্ষক খুবিতে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আইন স্কুলের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইন স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ ওয়ালিউল হাসানাত। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান। তিনি বলেন একাত্তরে স্বাধীনতাকামী এ দেশের সাধরাণ, নিরস্ত্র লাখ লাখ মানুষকে পাক দখলদার বাহিনী তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলসামস, শান্তিবাহিনীর সহায়তায় হত্যা করে, গুম করে, মা বোনদের সম্ভ্রম হানি করে। এর সাথে জড়িত এবং সম্পৃক্ত ছিলো তাদের বিচারের জন্য বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে কোলাবোরেটরস আইন এবং ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেন।

এটি যথাযথ ছিলো এবং এই আইনে বিচার কাজ শুরু হয় এবং কয়েকটি রায়ও কার্যকর হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর ষড়যন্ত্রকারীরা ইন্ডেমেনিট অধ্যাদেশ জারি করে। এর প্রধান কারণ, মুক্তিযুদ্ধকালীন সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে যারা জড়িত, যারা পঁচাত্তরের ১৫ আগষ্টে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের যেনো বিচার না হয়। এর পরই আমরা লক্ষ্য করি মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে সরাসরি জড়িতরা মন্ত্রী হয়, দেশের পতকাবাহী গাড়িতে চড়ে। এর চেয়ে দুঃখজনক কিছু হতে পারে না।

তিনি বলেন ইতিহাসের সেই কালো অধ্যায় থেকে দেশ ও জাতির উত্তরণ ঘটেছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালে পার্লামেন্টে পাস করে বর্তমান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেন। এর মাধ্যমে ইতিমধ্যে অনেকগুলো মামলার রায় হয়েছে এবং তা কার্যকরের মাধ্যমে জাতি অনেকটা কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন এই ট্রাইবুন্যালের মাধ্যমে আরও মামলার বিচার হবে জাতি সে অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন স্কুল কর্র্তৃক এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা এবং সেখানে আইসিটির প্রসকিউটার, অতিরিক্ত এটর্নী জেনারেলে জিয়াদ আল মালুমের মতো ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি আইনের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারিদের সম্যক ধারনা লাভের সুযোগ করে দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের মূল আলোচক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসকিউটর জিয়াদ আল মালুম তার ঘণ্টাব্যাপী বক্তব্যে ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত রাজনৈতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। পাকিস্তানের দুটি অংশ একটি অপরটি থেকে প্রায় ১৪শ মাইল দূরে থাকলেও এবং এই দুই অংশের মানুষের ভাষা, সংস্কৃতি, শরীরের গঠন ও রং সবেরই পার্থক্য থাকলেও ধর্মের দোহাই দিয়ে পশ্চিমারা আমাদেরকে কেবল শোষণ ও বঞ্চনার হাতিয়ার বানিয়েছিলো। এর পরের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের রক্তদানের মাধ্যমে বাঙালি জাতির মধ্যে জাতীয়তাবোধর নবজাগৃতি ঘটে।

তিনি আরও বলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর অসীম ত্যাগ, সাহসীকতা, দূরদর্শীতা নেতৃত্ব, এদেশের মানুষের প্রতি তাঁর অগাধ বিশ্বাস ও ভালোবাসার জন্য তিনি নেতৃত্ব দিয়ে একটি স্বাধীন দেশ ও জাতি উপহার দিয়েছেন। তিনি বলেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণহত্যা ঘটে ১৯৭১ সালের ২৫মে এই খুলনার ডুমুরিয়ার চুকনগরে, মাত্র দেড় ঘন্টায় ১০ সহ¯্রাধিক নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখক নারী ও শিশু ছিলো। তিনি বলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালে পার্লামেন্টে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন পাশ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) গঠন করলে এর পুনরায় যাত্রা শুরু হয়।

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখানে পার্লামেন্টে এ আইন পাশ হয়েছে এবং নিঃসন্দেহে বলা যায় বাংলাদেশে এই আইসিটি আন্তর্জাতিক মানের এবং এ পর্যন্ত যে রায় হয়েছে তা অত্যন্ত স্বচ্ছ। তিনি আইসিটির বিভিন্ন দিক নিয়ে এবং এর বিচার কার্যক্রমের উল্লেখযোগ্য দিক নিয়ে আলোচনা করেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ডিসিপ্লিনের সাথে আইসিটি আইনসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম এবং আইসিটি মামলার বিচারকার্য পর্যবেক্ষণের সুযোগ প্রদানের বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ সারোয়ার জাহান। সভাপতির বক্তৃতায় প্রফেসর ড. মোঃ ওয়ালিউল হাসানাত বলেন আইনের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের জন্য এ অনুষ্ঠান অত্যন্ত কার্যকর হবে। তিনি বলেন আইসিটি মামলার আসামী যারা এখনো বিদেশে পালিয়ে আছে তাদের দেশে এনে বিচারকার্য সম্পন্ন করলে জাতি আরো কলঙ্ক মুক্ত হবে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *