প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিইসির ‘আচরণে’ ঐক্যফ্রন্টের সভা বর্জন

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সভা বর্জন করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৫, দুপুর পৌনে ২টার দিকে সভা বর্জন করে সাংবাদিকদের একথা জানান ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

এর আগে সাড়ে ১২টার দিকে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে কমিশনের সাথে বৈঠকে বসে ঐক্যফ্রন্ট। ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায়, ড. মঈন খান, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, গণফোরামের প্রেসিডেয়াম সদস্য মোস্তফা মহসিন মন্টু এবং ড. জাফুরুল্লাহ প্রমুখ।

ঐক্যফ্রন্টের নেতারা জানান, বৈঠকে তারা তাদের প্রার্থীর ওপর সারা দেশে হামলা, গ্রেফতার ও প্রচারণায় বাধা দেয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন। বৈঠকের শেষের দিকে সিইসি কে এম নূরুল হুদার আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে বৈঠক শেষ না করেই তারা বের হয়ে আসেন।

মিসেস আফরোজা আব্বাসের গণসংযোগে হামলা, সাংবাদিকসহ আহত অনেকে

মিসেস আফরোজা আব্বাসের গণসংযোগে হামলা, সাংবাদিকসহ আহত অনেকে

ঢাকা-৯ আসনের বিএনপি প্রার্থী আফরোজা আব্বাসের গণসংযোগে আবারো হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। আজ ২৩ ডিসেম্বর রোববার দুপুর ১টার দিকে মুগদা এলাকার মানিকনগর পুকুরপাড় এলাকায় মিছিলের পেছন থেকে এ হামলা চালায় সরকার দলীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। হামলায় নারী ও সাংবাদিকসহ অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। এ ঘটনার পর আফরোজা আব্বাস গণসংযোগ বন্ধ করে বাসায় ফিরে গেছেন । এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগে নিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন আফরোজা আব্বাস।

দুপুর ১২টায় শাহজাহান পুরের নিজ বাসা থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে মিছিল নিয়ে মহিলাদল সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস গণসংযোগে বের হন। মিছিলটি মুগদা এবং মান্ডা হয়ে মানিকনগর মোড়ে পৌঁছালে স্থানীয় ¯ে^চ্ছাসেবক লীগ নেতা টুন্ডা বাবুর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা পেছন থেকে হামলা চালায়।

হামলাকারীরা হলো, মান্ডা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি শামিম, সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল, মুগদা থানা ছাত্রলীগ সভাপতি রুবেল, সাধারণ সম্পাদক শাম্পু, ,মুগদা ¯ে^চ্ছাসেবক লীগ নেতা শামীম হোসেন, শাহাজাদা বাবু, আওলাদ, রুবেল, জীবন, মানিকনগর যুবলীগ নেতা জীবন, মান্ডা যুবলীগ নেতা হাজী বিপ্লব, সাধারণ সম্পাদক জাবেদ, বিচ্ছু রনি, চাঁনতারা ফারুক, পিচ্ছি রাসেল, শাহিন, প্লাবন, মান্ডা আওয়ামীলীগ নেতা হাজী আনোয়ার, মুগদা আওয়ামীলীগ নেতা গেলাম কিবরিয়া রাজা।

এ ঘটনায় হায়দার আলী, নামে একজন ফটো সাংবাদিক মারাত্মক আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা তার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। একইসঙ্গে তাকে মাটিতে ফেলে উপর্যুপরি লাথি মারতে থাকে ও পিটিয়ে আহত করে। আহত সাংবাদিকদের মধ্যে আছেন, আসাদ, মিন্টু, পারভেজ।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন, মহিলাদল নেত্রী নূরজাহান আক্তার ইভা, শোভা, মনোয়ারা রহমান, জয়া, শারমিন আক্তার, মিজানুর রহমান, সোনিয়া আহমেদ, পারভিন, মর্জিনা আক্তার, ফরিদা পারভিন, সুলতানা রাজিয়া, আসিফ, সোহেল, ইসমাইল, কাজী আকবর প্রমুখ।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ২১ অঙ্গীকার

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ২১ অঙ্গীকার—

১. আমার গ্রাম, আমার শহর- প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ

২. তারুণ্যের শক্তি-বাংলাদেশের সমৃদ্ধি: তরুণ যুব সমাজকে দক্ষ জনশক্তিকে রূপান্তরিত করা এবং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা।

৩. দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ

৪. নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা ও শিশুকল্যাণ

৫. পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা,

৬. সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূল

৭. মেগা প্রজেক্টগুলোর দ্রুত ও মানসম্মত বাস্তবায়ন

৮. গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুদৃঢ় করা

৯. দারিদ্র্য নির্মূল

১০ সকল স্তরে শিক্ষার মান বৃদ্ধি

১১. সকলের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা

১২. সার্বিক উন্নয়নে ডিজিটাল প্রযুক্তির অধিকতর ব্যবহার

১৩. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা

১৪. আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা- লক্ষ্য যান্ত্রিকিকরণ

১৫. দক্ষ ও সেবামুখী জনপ্রশাসন

১৬. জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা

১৭ ব্লু ইকোনোমি- সমুদ্র সম্পদ উন্নয়ন

১৮. নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা

১৯ . প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও অটিজম কল্যাণ

২০. টেকসই উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ

২১. সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি

৩০ ডিসেম্বর দেশের মানুষের মুক্তির দিন — কাদের সিদ্দিকী

আগামী ৩০ ডিসেম্বর মানুষের মুক্তির দিন। আমাকে একজন বলেছিল, আপনি বঙ্গবন্ধুকে মনে রেখে রাজনীতি করেন। বঙ্গবন্ধুর মেয়ে মানুষ হত্যা করে। ’৭১ সালে পাকিস্তানিরা পারেনি। এই সরকারও জুলুম করে ঠিকে থাকতে পারবে না।

বুধবার, ডিসেম্বর ১৯, বিকেল ৪টায় কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-সদর দক্ষিণ-লালমাই) আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত ধানের শীষের কারারন্তরীণ মনিরুল হক চৌধুরীর সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় একথা বলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, পুলিশ দিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করা যায় না। খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইলে ৩০ তারিখ ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। ভোটকেন্দ্র রক্ষা করতে হবে। সুতরাং, সবাই প্রস্তুত হোন।

তিনি নলেন, নাঙ্গলকোট থানার ওসি নাকি প্রতিদিন গ্রেফতার করেন, আমি হুঁশিয়ার করে দিতে চাই, এক মাঘে শীত যায় না। মনিরুল হক চৌধুরীকে জেলখানায় রেখে কোনোকিছু করতে পারবে না। ধানের শীষের একমাত্র প্রতীক খালেদা জিয়া। মনিরুল হক চৌধুরীকে সেই প্রতীকে নির্বাচিত করুন।

‘জিয়াউর রহমান, আসম আব্দুর রব, কাদের সিদ্দিকী যেখানে, আমি বলবো, আমরাই স্বাধীনতা। পুলিশ প্রতিদিন গ্রেফতার করে, আমরা ভয় পাই না। ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল থাকলে বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। এই সরকার ভয় পেয়েছে।’

ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার
১. প্রতিহিংসা বা জিঘাংসা নয়, জাতীয় ঐক্যই লক্ষ্য:

• বিগত দশ বছরে কল্পনাতীত স্বেচ্ছাচারিতা এবং পুলিশকে দলীয় ক্যাডার হিসাবে ব্যবহার করে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা, গুম, খুন, মামলার ঘুষ বাণিজ্য ও বিচার বহির্ভূত হত্যায় লাখো পরিবার ক্ষুব্ধ ও বিপর্যস্ত। এই সমস্যা সমাধান করে সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী, আইনজীবী সমন্বিত সর্বদলীয় সত্যানুসন্ধান ও বিভেদ নিরসন (Truth and Reconciliation) কমিশন গঠন করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অতীতের হয়রানিমূলক মামলা সুরাহার লক্ষ্যে খোলামনে আলোচনা করে ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হবে। কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সৃষ্ট সব ফৌজদারি মামলা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সৃষ্ট মামলা প্রত্যাহার করা হবে এবং ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

• সকল জাতীয় বীরদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অন্তর্ভুক্ত করে স্কুল-কলেজে পড়ানো হবে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করা হবে।

• এক দলীয় শাসনের যেন পুন:জন্ম না ঘটে তা নিশ্চিত করা হবে।

২. ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা, নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনি আইন ও নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার:
• রাষ্ট্রের মালিক জনগণের ভোটের অধিকার শতভাগ রক্ষা করার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় নাগরিকদের পছন্দের জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত করার পূর্ণাঙ্গ অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
• সকল অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকারের বিধান তৈরি করা হবে।
• নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় তার কাজে সরকারের প্রভাবমুক্ত থাকবে এবং তার স্বাধীন বাজেট থাকবে।
• গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংস্কার করে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন সহজ করা হবে এবং স্বতন্ত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভোটারের সর্থনের বিধান বাতিল করা হবে।
• প্রতিটি পর্যায়ের নির্বাচনে পেশিশক্তি, কালো টাকা এবং গণমাধ্যমের অপব্যবহার রোধ করার জন্য সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

৩. মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ:
• ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল করা হবে।
• মত প্রকাশের ক্ষেত্রে মানুষ পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে। গণমাধ্যমের ওপর কোনও রকম প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।
• সামাজিক গণমাধ্যমে মত প্রকাশের ক্ষেত্রে সরকারি বিধি নিষেধ থাকবে না।
• সরকারি পদক্ষেপ এবং পদধারীদের বিরুদ্ধে সমালোচনা, এমনকি ব্যঙ্গ-বিদ্রুপেরও অধিকার থাকবে। এসব ক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হলে মানহানির মামলা তার নিজেকেই করতে হবে (অন্য কেউ করতে পারবে না) এবং এই ধরনের মামলা কোনোভাবেই ফৌজদারি মামলা হবে না।

৪. ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিতকরণ:
• দেশের বিচার ব্যবস্থা, বিশেষ করে নিম্ন আদালত এখনও কার্যত সরকারের অধীনেই আছে। সংবিধানের ১১৫ এবং ১১৬ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে নিম্ন আদালতকে পুরোপুরি সুপ্রিম কোর্টের অধীনে দেওয়া হবে।
• সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুধু অনাস্থা ভোট এবং অর্থবিল ছাড়া অন্য যে কোনও ক্ষেত্রে দলীয় সংসদ সদস্য দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলেও তাদের সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে না এমন সংশোধনী ৭০ অনুচ্ছেদে আনা হবে।
• সংসদের উচ্চকক্ষ সৃষ্টি করা হবে। সকল অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে উচ্চকক্ষের গঠন প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হবে।
• সকল সাংবিধানিক পদে নিয়োগের জন্য সুস্পষ্ট আইন তৈরি করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিসহ সব সাংবিধানিক পদে নিয়োগের জন্য স্বাধীন কমিশন (বিরোধীদলীয় প্রতিনিধিসহ) গঠন করা হবে। উক্ত কমিশন কর্তৃক প্রাথমিক মনোনয়নের পর নিয়োগের পূর্বে তাদের নাম জনগণের মতামতের জন্য প্রচার করা হবে।
• সংসদীয় স্থায়ী কমিটির উল্লেখযোগ্য পদ সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হবে।
• প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য আনা হবে। মন্ত্রিসভাসহ প্রধানমন্ত্রীকে সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকার সাংবিধানিক বাধ্যবাদকতা নিশ্চিত করা হবে। পর পর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকা যাবে না।
• সংসদের ডেপুটি স্পিকার বিরোধীদলীয় সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচন করা হবে।
• আইন এবং রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়ন এবং পর্যালোচনাই হবে সংসদ সদস্যদের মূল কাজ। খবরদারি নয়, সংসদ সদস্যগণ স্থানীয় উন্নয়নে স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সহায়তামূলক ভূমিকা পালন করবেন।
• বিরোধী দলের সাংবিধানিক মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। রাষ্ট্রপরিচালনায় বিরোধী দলের মতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

৫. স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা এবং বিকেন্দ্রীকরণ:
• দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব থাকবে নির্বাচিত স্থানীয় সরকারের হাতে।
• বর্তমানে কমবেশি ৫ শতাংশ বাজেট স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে ব্যয়ের পরিবর্তে প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে বাড়িয়ে পাঁচ বছরে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ বাজেট স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে ব্যয়ের বিধান করা হবে।
• বাজেটে প্রতিটা জেলার জন্য জেলা বাজেট এবং সেটা পর্যায়ক্রমে নিচের দিকে স্থানীয় সরকারের মধ্যে বণ্টন করা হবে।
• জেলা পরিষদ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবে।
• রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।
• পৌর এলাকাগুলোতে সব সেবা সংস্থা মেয়রের অধীনে রেখে সিটি গভর্নমেন্ট চালু করা হবে।
• স্থানীয় সরকারের দলীয় প্রতীকের ভিত্তিতে নির্বাচনের প্রথা বাতিল করা হবে।
• ঢাকার কাছাকাছি বিভিন্ন জেলায় উন্নত নাগরিক সুবিধাসহ কয়েকটি শহর গড়ে তোলা হবে যেখান থেকে ঢাকায় খুব দ্রুত যাতায়াতের ব্যবস্থা থাকবে।
• জনকল্যাণে প্রশাসনিক কাঠামো প্রাদেশিক পর্যায়ে বিন্যস্ত করা এবং স্থানীয় সরকারের স্তর নির্ধারনের লক্ষ্যে কমিশন গঠন করা হবে।

৬. তরুণদের কর্মসংস্থান:
বেকার সমস্যার সমাধান হবে আমাদের সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারের একটি। সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতার ফলে ‘কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধির’ দুষ্টচক্র থেকে তরুণ সমাজকে বের করে আনতে খুব দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
• পুলিশ এবং সামরিক বাহিনী ব্যতীত সরকারি চাকরিতে প্রবেশের জন্য কোনও বয়সসীমা থাকবে না।
• সরকারি চাকুরিতে শুধুমাত্র অনগ্রসর জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা ছাড়া আর কোনও কোটা থাকবে না।
• ত্রিশোর্ধ্ব শিক্ষিত বেকারের জন্য বেকার ভাতা চালু করার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা পরীক্ষা করে বাস্তবায়ন করার জন্য একটি কমিশন গঠন করা হবে।
• আগামী ৫ বছরের মধ্যে সব সরকারি শূন্য পদে নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে।
• প্রতি জেলা-উপজেলায় তরুণদের কর্মমুখী করার লক্ষ্যে কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। উদ্যোক্তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা ও স্বীকৃতি প্রদানের কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বেকার তরুণদের উদ্যোক্তা করার প্রয়াসে বেসরকারি ঋণ প্রদান ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। (তারুণ্যের ইশতেহার ভাবনা ২০১৮ থেকে সংযুক্ত)
• বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রশাসনিক জটিলতা, ঘুষ-দুর্নীতি, রাজনৈতিক পোষকতা মুক্ত বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। (তারুণ্যের ইশতেহার ভাবনা ২০১৮ থেকে সংযুক্ত)
• বড় নিয়োগ পরীক্ষাগুলো বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের মতো বিভাগীয় শহরগুলোতেও নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। ‌সরকারি কর্মকমিশনের কর্মক্ষমতা বাড়াতে জনবল বৃদ্ধি করে সরকারি সকল চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা পাবলিক সার্ভিস কমিশনের নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। প্রয়োজনে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে আলাদা বোর্ড গঠন করা হবে। (তারুণ্যের ইশতেহার ভাবনা ২০১৮ থেকে সংযুক্ত)
• সরকারি চাকরি আইনের আলোকে বেসরকারি চাকরি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে বিদ্যমান বৈষম্য কমানো হবে। (তারুণ্যের ইশতেহার ভাবনা ২০১৮ থেকে সংযুক্ত)
• দেশে কাজ করা ওয়ার্ক পারমিটবিহীন অবৈধ সকল বিদেশি নাগরিকের চাকরি বন্ধ করা হবে। যেসব সেক্টরে বৈধ বিদেশি চাকুরিজীবী আছেন, সেসব ক্ষেত্রেও প্রয়োজনে প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশীয় তরুণদের নিয়োগে উৎসাহ দেয়া হবে। বৈধ বিদেশি চাকরিজীবীদের আয়কর প্রদানে বাধ্য করা হবে।
• সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় তরুণদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করা হবে। ফ্রিল্যান্সিংয়ের আয় দেশে নিয়ে আসার জন্য দ্রুততম সময়ে পেপ্যাল সেবা দেশে আনা হবে।
• বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ভাষা, ভোকেশনাল ট্রেনিং এবং চাকরি উপযোগী প্রশিক্ষণ দিয়ে তরুণদেরকে বিদেশে কর্মসংস্থানে সহায়তা করা হবে। বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ব্যয় বর্তমানের তুলনায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে নিয়ে আসা হবে। চূড়ান্তভাবে বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত হলে নামমাত্র সুদে ঋণ দেওয়া হবে।
• গ্রামে অবস্থান করে দেশবাসীর পুষ্টির উন্নয়নের জন্য শিক্ষিত তরুণ তরুণীরা ক্ষুদ্র পোলট্রি ফার্ম স্থাপন করে উৎপাদন ও বাজারজাতে নিয়োজিত হলে তাদের বিনা সুদে ঋণ ও অন্যান্য বিশেষ প্রণোদনা সাহায্য দেয়া হবে এবং পোলট্রি সংশ্লিষ্ট প্রাণী ও উৎপাদন সামগ্রীর পুরো আমদানি শুল্ক, ভ্যাট ও আয়কর মুক্ত হবে আগামী ১০ (দশ) বছরের জন্য। তবে বড় পুঁজির পোলট্রিতে ১৫ শতাংশ বিক্রয় শুল্ক ও ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য হবে।
• উদ্যোক্তা তরুণদের জন্য খুব কম সুদে ঋণ প্রদান করা হবে।
• ব্যাপক সংখ্যক নন-গ্র্যাজুয়েটের কর্মসংস্থান হবে কৃষি উৎপাদন এবং কৃষি বিপণন সমবায়ে। প্রয়োজন মাফিক বহুল ব্যবহৃত এবং প্রয়োজনীয় স্বল্প উৎপাদিত কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বিশেষ উৎসাহ ভর্তুকি দেওয়া হবে।
• দরিদ্র ও স্বল্প শিক্ষিত যুবকদের একটি আফ্রিকান ভাষায় কথোপকথন ও আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার সর্ম্পকিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের কৃষিতে তাদের ব্যাপক কর্মসংস্থান হবে। জাপানেও কৃষিতে কর্মসংস্থানের উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে।
• তরুণদের সরকারি উন্নয়নকাজে সংযুক্ত করা হবে।
• বেশি সংখ্যক কর্মসংস্থানের জন্য শ্রমঘন মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্প খাতকে উৎসাহিত করা হবে এবং প্রণোদনা দেয়া হবে।

৭. শিক্ষা:
• কর্মসংস্থানকে প্রাধান্য দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের জন্য কমিশন গঠন করা হবে।
• সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য আসন সংরক্ষণ করা হবে।
• জাতির ভবিষ্যৎ যোগ্য নেতৃত্ব বিকাশের পথকে সুগম করার লক্ষ্যে প্রথম বছরেই ডাকসুসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করা হবে।
• পিইসি এবং জেএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হবে।
• প্রকৃত দরিদ্র অস্বচ্ছল মেধাবী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারিভাবে উপযুক্ত হারে বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে এবং এই ক্ষেত্রে অর্থায়নের সাহায্যের জন্য সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সিএসআর বাধ্যতামূলকভাবে চালুর ব্যবস্থা করা হবে।(তারুণ্যের ইশতেহার ভাবনা ২০১৮ থেকে সংযুক্ত)
• বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ গুলোকে ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভাগ করে সরকারিভাবে শিক্ষাব্যয় সুনির্দিষ্ট করে ফি নির্ধারণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। (তারুণ্যের ইশতেহার ভাবনা ২০১৮ থেকে সংযুক্ত)
• মেধাপাচার রোধে মেধা বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি যথার্থ মূল্যায়ন ও উপযুক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। ট্যালেন্ট সার্চ কর্পোরেশন গঠনের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। (তারুণ্যের ইশতেহার ভাবনা ২০১৮ থেকে সংযুক্ত)
• বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন কৃত্রিম সংকট দূর করে আবাসন সমস্যার সমাধান করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক হলের সংখ্যা (বিশেষ করে মেয়েদের হল) বৃদ্ধি করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিয়ে আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করে শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। ছাত্র রাজনীতির নামে আবাসিক হলগুলোতে সিট বাণিজ্য জোরপূর্বক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ ও শিক্ষার্থী নির্যাতন বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং আবাসিক হলের বরাদ্দ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে হল প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হবে। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর খাবারের মানোন্নয়ন ও মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখাসহ পর্যাপ্ত ভর্তুকি দেওয়া হবে। (তারুণ্যের ইশতেহার ভাবনা ২০১৮ থেকে সংযুক্ত)
• শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা আলাদা আলাদাভাবে না নিয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল কৃষি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ করে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। (তারুণ্যের ইশতেহার ভাবনা ২০১৮ থেকে সংযুক্ত)
• উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাবী ও যোগ্য শিক্ষক নির্বাচনে একাডেমিক ফলাফল গবেষণা কর্ম বা পিএইচডি ডিগ্রি ছাড়া নিয়োগ প্রদান করা হবে না। ‌শিক্ষকদের পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতা নির্ধারণ এবং গবেষণা কর্মের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান সহশিক্ষকতার সার্বিক দক্ষতাকে বিবেচনা করা হবে। (তারুণ্যের ইশতেহার ভাবনা ২০১৮ থেকে সংযুক্ত)
• ‘প্রশ্ন ফাঁস বিরোধী সেল’ গঠন এবং প্রশ্নফাঁস রোধে কার্যকর আইন প্রণয়ন করা হবে। একইসঙ্গে সর্বোচ্চ মহলে জবাবদিহিতা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। (তারুণ্যের ইশতেহার ভাবনা ২০১৮ থেকে সংযুক্ত)
• বেসরকারি স্কুলগুলোকে পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণ করা হবে।
• ধসে পড়া শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সকল পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
• সকল পর্যায়ের শিক্ষকদের গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষক প্রশিক্ষন বৃদ্ধি করা হবে।
• প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য নতুন ক্যাডার সার্ভিস চালু করা হবে।
• শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষার দক্ষতা বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
• কর্মমুখী শিক্ষায় আগ্রহীদের বৃত্তি প্রদান করা হবে।
• মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কারিগরী শিক্ষা দিয়ে বিদেশে কর্মসংস্থান করা হবে।
• প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ধর্মীয় শিক্ষার জন্য শিক্ষক নিয়োগ করা হবে।
• শিক্ষা ক্ষেত্রে জিডিপি’ অনুপাতে বরাদ্দ বর্তমানের ২.২৫ শতাংশের পরিবর্তে আগামী ৫ বছরের মধ্যে ইউনেস্কো নির্দেশিত ৬ শতাংশে উন্নীত করা হবে।
৮. দুর্নীতি দমন:
বৃহৎ প্রকল্পের দুর্নীতির সঙ্গে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মুখোমুখি হওয়া বিভিন্ন সেবা খাতের দুর্নীতি দমনকে আমাদের সরকার অগ্রাধিকারের শীর্ষে রাখবে।
• দায়িত্ব পাবার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বর্তমান সরকারের সব দুর্নীতির তদন্ত করে তার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
• সংবিধান নির্দেশিত পথে ন্যায়পাল নিয়োগ করা হবে এবং সংবিধান নির্দেশিত সব দায়িত্ব পালনে ন্যায়পালকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হবে। কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিটি ইউনিটে ন্যায়পাল নিয়োগ করা হবে।
• দুর্নীতি দমন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হবে।
• দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা গ্রেফতারে সরকারের অনুমতির বিধান (সরকারি চাকরি আইন – ২০১৮) বাতিল করা হবে।
• স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য তথ্য অধিকার আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
• সরকারি-বেসরকারি নানা দুর্নীতি অনিয়ম প্রকাশকারী ব্যক্তিদের (হুইসেল ব্লোয়ার) সুরক্ষা দানকারী হুইসেল ব্লোয়ার’স অ্যাক্ট সংশোধন করে আরও শক্তিশালী করা হবে এবং সেই আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্নীতি ফাঁসকারিদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
• দেশ থেকে টাকা পাচারের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাচারকৃত টাকা দেশে ফিরিয়ে আনতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৯. স্বাস্থ্য:
• দেশের সব ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রসমূহ স্বাস্থ্যক্যাডারের একজন সরকারি কর্মকর্তার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।
• ৩১ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে পর্যায়ক্রমিকভাবে ৫০ শয্যাবিশিষ্টে রূপান্তর করা হবে।
• সব জেলায় একটি করে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনপূর্বক ৫০০ শয্যার হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে।
• সব জেলায় ২০ শয্যাবিশিষ্ট সিসিইউ, ২০ শয্যার আইসিইউ, ১০ শয্যার এনআইসিইউ স্থাপন করা হবে।
• পুরাতন ২১ জেলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিক একটি করে ২০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং একটি করে ক্যান্সার কেমোথেরাপি সেন্টার গড়ে তোলা হবে এবং পর্যায়ক্রমিকভাবে তা সব জেলায় প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করা হবে।
• গ্রামীণ জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে সকল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের এক বৎসর ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সার্বক্ষণিকভাবে অবস্থান করে এক বছর প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হবে।
• সকল বড় ও জেলা শহরে জেনারেল প্র্যাকটিশনার প্রথা চিকিৎসা সৃষ্টি করে দ্রুত যথাযথ চিকিৎসার জন্য রেফারেল ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। মেট্রোপলিটন শহরে নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক জেনারেল প্র্যাকটিশনার পদ্ধতি চালু করা হবে। নাগরিকগণ একজন স্থানীয় জেনারেল প্র্যাকটিশনারের সঙ্গে নিবন্ধিত থাকবেন। জেনারেল প্র্যাকটিশনার রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরামর্শ দেবেন এবং প্রয়োজন মাফিক রোগীকে জেনারেল ও বিশেষায়িত হাসপাতালে রেফার করবেন। জেনারেল প্র্যাকটিশনার ক্লিনিকে পূর্ণ প্রাথমিক চিকিৎসা পরিচর্যা ও রোগ নির্ণয়, ৫০টি অতি প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ ও ফিজিওথেরাপির ব্যবস্থা থাকবে। কেন্দ্রীয় বাজেটে জেনারেল প্র্যাকটিশনার পদ্ধতি প্রচলনের জন্য পর্যাপ্ত বার্ষিক বরাদ্দ থাকবে।
• তিন মাসের মধ্যে ওষুধ এবং ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার খরচ নির্ধারণ করে সেটা প্রয়োগের মাধ্যমে এসব খরচ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমানো হবে।
• এনজিও ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান সমূহের সক্রিয় সাহায্য সহযোগিতায় সব রোগ প্রতিষেধক ব্যবস্থা, পরিবার পরিকল্পনার ব্যাপক প্রসার, নিরাপদ পানীয় ও পয়:প্রনালি, অসংক্রামক রোগের বিস্তার রোধ ও গর্ভবতীর শতভাগ সেবা প্রচলন ও অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান প্রসব রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সঙ্গে স্থানীয় ধাইদের অব্যাহত প্রশিক্ষণ দিয়ে নিজ বাড়িতে নিরাপদ প্রসবের চেষ্টা বিস্তৃত করা হবে।
• অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন সংস্কার করা হবে যাতে কোনও সুস্থ ব্যক্তি স্ব-ইচ্ছায় নিজের একটি অঙ্গ বা অঙ্গের অংশবিশেষ দান করতে পারেন। স্ব-ইচ্ছায় অঙ্গ দান করা ব্যক্তির মৌলিক অধিকার হিসাবে গণ্য করা হবে। অঙ্গ দানকারীকে সরকার বিশেষভাবে সম্মানিত করবেন।
• বেসরকারি পর্যায়ে একজন সার্জনকে ৫০ হাজার টাকা অপারেশন ফি দেওয়ার পরও অঙ্গ প্রতিস্থাপন দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকায় করা সম্ভব হবে। উন্নত মানের চোখের ফ্যাকো সার্জারি ১৫ হাজার টাকায় এবং ৩০-৪০ হাজার টাকায় হৃদরোগের স্টেন্ট স্থাপন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত মুনাফা করতে পারবেন। স্বাস্থ্য খাতে লাগামহীন মুনাফা অকল্পনীয় দুর্নীতির সমতুল্য। সরকার, বিজ্ঞ নি:স্বার্থ পেশাজীবী ও বিশিষ্ট নাগরিক কমিটির মাধ্যমেএসব ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।
• বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার অত্যাবশ্যকীয় ৪০০ অনধিক ওষুধের কাঁচামালের আমদানি শুল্কমুক্ত করা হবে। দেশে উৎপাদিত কাঁচামালের ব্যবহার বাধ্যতামূলক হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকা বহির্ভূত ওষুধের উৎপাদন ও আমদানির উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক ধার্য হবে। ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদনের জন্য অধিকতর প্রণোদনা দেওয়া হবে। দেশের প্রধান ৫০টি ওষুধ ফরমুলেশন কোম্পানি কমপক্ষে দুটি করে কাঁচামাল উৎপাদনে বাধ্য থাকবেন, যাতে ওষুধের কাঁচামালের জন্য বিদেশনির্ভরতা কমে এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়। ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে নামমাত্র সুদে অর্থায়নের সুবিধা দেয়া হবে এবং সকল কেমিক্যালস আমদানি শুল্ক, ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর মুক্ত হবে।
• সরকারি হাসপাতাল সমূহে ক্যান্সার ও অন্যান্য অসংক্রামক রোগের ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকারি এসেনসিয়াল ড্রাগ কোম্পানি লিমিটেডের অপর একটি ইউনিট দ্রুত চট্টগ্রামে স্থাপন করা হবে ।
• এসেনসিয়াল ড্রাগ কোম্পানি লিমিটেডের কোম্পানির উৎপাদিত সকল ওষুধ উন্মুক্ত বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে জনসাধারণ সরকারি হাসপাতালের বাইরে উন্নতমানের ওষুধ সুলভে কিনতে পারেন। প্রতিযোগিতার কারণে ওষুধের বাজারে মূল্য স্থিতি আসবে।
• দেশের সকল খুচরা ওষুধের দোকানে ছয় মাস মেয়াদে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ন্যূনতম এইচএসসি পাশ দুইজন ওষুধ বিক্রেতা এবং ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টকে রাখা বাধ্যতামূলক করা হবে যাতে ওষুধের ভুল প্রয়োগ কমে এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে রোগীরা সচেতেন হন।
• জেলা শহরের বিশেষায়িত হাসপাতালসমূহে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার জন্য স্থানীয়ভাবে সরাসরি মনোনীত ২০০ জন আগ্রহী বিভিন্ন উদীয়মান বিশেষজ্ঞদের রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি বিশেষায়িত হাসপাতালে দুই বছর সার্বক্ষণিক প্রশিক্ষণ দিয়ে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হবে।
• শারীরিক সুস্থতা থাকলে বিশেষজ্ঞদের অবসর বয়স হবে ৭০ (সত্তর) বছর। সব বিশেষজ্ঞদের বিনে ভাড়ায় হাসপাতাল সংলগ্ন বাসস্থান এবং বিশেষ বেতন-ভাতা দেওয়া হবে।
• শহরের বিশেষায়িত হাসপাতালের বিশেষজ্ঞগণ নিজ নিজ হাসপাতালে বিকালে প্র্যাকটিস করতে পারবেন। সকল সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট হাসপাতালে প্রাইভেট প্র্যাককটিস নিষিদ্ধ করা হবে।
• নার্সিং শিক্ষার সংস্কার করা হবে। তিন বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা নার্সিং কোর্সে ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা এসএসসি পাশ (জিপিএ ২.৫) এবং সেবার মনোবৃত্তি। সকল প্রশিক্ষণরত: নার্সগণ ন্যূনতম ৬ মাস উপজেলা ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সার্বক্ষণিকভাবে অবস্থান করে শিক্ষা নেবেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রশিক্ষণার্থী নার্সদের জন্য ২৫০০ বর্গফুটের ডরমিটরি নির্মাণ করা হবে।
• সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সহায়তা এবং প্রতিবন্ধী ও বয়োঃবৃদ্ধদের সেবার জন্য অতিরিক্ত একলাখ ডিপ্লোমাধারী নার্স, ২৫ হাজার টেকনিশিয়ান এবং ৫০ হাজার ডিগ্রিধারী ফিজিওথেরাপিস্ট ও এক লাখ সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত ফিজিওথেরাপিস্ট সহকারীর প্রয়োজন রয়েছে। মেধার ভিত্তিতে এমবিবিএস অধ্যয়নরত দরিদ্র পরিবারের ছাত্রদের জন্য ১০ শতাংশ বৃত্তির ব্যবস্থা থাকবে। সরকারি মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের টিউশন ফি ও হোস্টেল ভাড়া বাড়িয়ে যৌক্তিক হারে নির্ধারিত হবে।
• প্রত্যেক মেডিক্যাল ছাত্র ৫ (পাঁচ) বছর অধ্যয়নকালে ন্যূনতম দু’বার এক মাস করে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে অবস্থান করে প্রশিক্ষণ নেবে এবং গ্রামের সঙ্গে পরিচিত হবেন।
• সকল নবীন চিকিৎসক ন্যূনতম দুই বৎসর উপজেলা ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত থাকার পর উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবেন। মফস্বলে ন্যূনতম বৎসর চিকিৎসা না দিয়ে কোনও চিকিৎসক উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হতে পারবেন না। বেসরকারি চিকিৎসকদের বেলাতে একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
• ১৯৯০ সালের জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির আলোকে জেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হবে যার একজন নির্বাচিত চেয়ারপারসন থাকবেন এবং জেলা সিভিল সার্জন হবেন নির্বাহী ভাইস চেয়ারপারসন। জেলায় কার্যরত সকল চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর ব্যবস্থাপনা এই কর্তৃপক্ষের ওপর ন্যস্ত হবে।
• জেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে নতুন সব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সাধারণ চিকিৎসকদের মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেবেন। প্রত্যেক ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের জন্য প্রাথমিকভাবে দু’জন নবীন চিকিৎসককে জেলা স্বাস্থ্যকর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োগ দেবেন। অদূর ভবিষ্যতে আরও একজন নবীন চিকিৎসককে নিয়োগ দেওয়া হবে। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের চিকিৎসকরা কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়মিত যেয়ে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবেন, তাদের চিকিৎসা পর্যালোচনা করবেন এবং রেফারেল রোগীদের পরামর্শ ও চিকিৎসা দেবেন।
• জেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ পরিচালনায় প্রত্যেক ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসক ও ইর্ন্টানদের ও মেডিক্যাল ছাত্রদের বাসস্থান এবং ক্লাসরুম ও ডরমিটরির জন্য অনূ্ন্য পাঁচ হাজার বর্গফুটের স্থাপনা তৈরি করা হবে। জরুরি ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় বাজেটের বিশেষ বরাদ্দ থেকে এটি নির্মাণ করা হবে। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে কর্মরত নার্স ও টেকনিশিয়ানদের জন্য অনধিক তিন হাজার বর্গফুটের বাসস্থান ও ডরমিটরি নির্মাণ করা হবে।
• পাঁচ বছর ইউনিয়ন ও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র সার্বক্ষণিকভাবে কর্মরত থাকার পর নবীন চিকিৎসকগণ সরকারি অর্থায়নে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবেন। উচ্চ শিক্ষার পর তারা স্ব স্ব জেলার বিশেষায়িত হাসপাতালে সহযোগী বিশেষজ্ঞ পদ পাবেন। কয়েক বৎসর পরপর ক্রমে নবীন বিশেষজ্ঞ সিনিয়র বিশেষজ্ঞ, প্রধান বিশেষজ্ঞ পদে উন্নীত হবেন।
• জেলা শহরগুলোতে বিশেষায়িত হাসপাতালসমূহ প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত রাজধানীতে নতুন কোনও সরকারি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে না।
• স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করনের জন্য একজন ‘ন্যায়পাল’ থাকবেন। তার অধীনে কয়েকজন বিজ্ঞানী, পরিসংখ্যানবিদ, ফার্মাকোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, মাইক্রোবায়োলজিস্ট ও ইপিডিমিওলজিস্ট থাকবেন যারা নিয়মিত ওষুধের অপপ্রয়োগ রোধে ব্যবস্থাপত্র নিরীক্ষা এবং সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রোগীর মৃত্যুর খতিয়ান নিয়মিত পরীক্ষা করে জনসাধারণকে ফলাফল অবহিত করবেন।
• ন্যূনতম প্রিমিয়ামের ভিত্তিতে সব কৃষক-শ্রমিকের জন্য স্বাস্থ্যবীমা নিশ্চিত করা হবে।
• স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির বর্তমান বরাদ্দ ০.৯ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে আগামী ৫ বছরের মধ্যে ৩ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হবে। চেষ্টা থকাবে দ্রুত যেন সেটা কমপক্ষে ৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া যায়।

১০. খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ:
• ‘বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩’ এর যুগোপযোগী সংস্কার করা হবে এবং এর কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে খাদ্যে ভেজাল এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো পুরোপুরি বন্ধ করা হবে। দায়িত্বপ্রাপ্তির এক বছরের মধ্যে মানুষকে নিরাপদ খাদ্য পাওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।
• বিএসটিআইয়ের প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন করে খাদ্য এবং অন্যান্য পণ্যের মান নির্ধারণ এবং নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্তভাবে ক্ষমতায়ন করা হবে।
১১. মাদক নিয়ন্ত্রণ:
• দায়িত্বপ্রাপ্তির প্রথম দিন থেকেই মাদক নিয়ন্ত্রণকে সরকারের খুব গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারের তালিকায় আনা হবে। মাদক পরিবহন এবং বিপণনের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। মাদক চোরাচালান রোধে প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে সহায়তামূলক সম্পর্ক জোরদার করা হবে।
• মাদকাসক্তির জন্য দায়ী সামাজিক এবং পারিবারিক কারণসমূহ সমাধান করার লক্ষ্যে কাজ করা হবে।
• এর মধ্যে যারা মাদকাসক্ত হয়ে গেছে তাদের জন্য চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা হবে। এই লক্ষ্যে সরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
• সিগারেট এবং সব তামাকজাত পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক ধার্য করা হবে।

১২. আইনশৃঙ্খলা বাহিনী:
• বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং গুম (এনফর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারান্স) পুরোপুরি বন্ধ করা হবে। ইতোপূর্বে সংগঠিত এ ধরনের সব ঘটনার তদন্ত করা হবে।
• মানুষের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হবে।
• পুলিশ সকল অভিযোগ লিপিবদ্ধ করে তদন্ত করতে বাধ্য থাকবে। চার্জশিট হলে আদালতে লিখিত অনুমতি দিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করবে, তার পূর্বে না। বিনা পরোয়ানায় কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না।
• রিমান্ডের নামে পুলিশি হেফাজতে কোনও প্রকার শারীরিক নির্যাতন করা যাবে না।
• পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে পুরোপুরি স্বাধীন করা হবে।
• ৩৩ শতাংশ এসপি নিযুক্ত হবেন সাব-ইন্সপেক্টর হিসাবে চাকরি শুরু করা অফিসারদের মধ্য থেকে।
• পুলিশ অ্যাক্ট রিভিউ করে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে।
• পুলিশ সকল অভিযোগ লিপিবদ্ধ করে তদন্ত করতে বাধ্য থাকবে, চার্জশিট হলে পরে আদালতের লিখিত অনুমতি নিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করবে, তার পূর্বে নয়। এতে হয়রানি ও পুলিশের ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ হবে।
• মিথ্যা মামলায় অভিযুক্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবাং মিথ্যা মামলায় সহায়তাকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
• বর্তমানে সাধারণ মানুষের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে স্থানীয় অসৎ নেতৃত্ব ও পুলিশ প্রশাসন ব্যাপক দূর্নীতির মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়া প্রতিহত করার লক্ষ্যে মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। ময়নাতদন্ত ও ছুরতহাল রির্পোট ছাড়া কোনও অস্বাভাবিকভাবে মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন করা যাবে না।
• অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে মানহানির মামলা করতে পারবেন কেবলমাত্র সরকার বা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি, অন্য কেউ নয়। তা বর্তমান আইনে সুস্পষ্ট থাকা সত্ত্বেও নিম্ন আদালতের বিচারকদের অজ্ঞতা কিংবা সরকারকে তুষ্টি করার কারণে আইনের ব্যত্যয় ঘটছে এবং শত শত মামলা সৃষ্টি হচ্ছে। কেবলমাত্র নির্ধারিত কোর্ট ফি দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি/ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিকটস্থ আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে। বিক্ষুদ্ধ ব্যক্তি ছাড়াও যে কোনও ব্যক্তি বিনা কোর্ট ফিতে দেশের যে কোনও আদালতে মামলা করার প্রথা বন্ধ করা হলে অপ্রয়োজনীয় মামলার জট কমবে।
• বিভিন্ন জায়গায় এবং মহাসড়কে পুলিশের চাঁদাবাজি পুরোপুরি বন্ধ করা হবে।
• হাইকোর্টের নির্দেশনা মেনে সাদা পোশাকে কাউকে গ্রেফতার করা হবে না।
• টিআইবির খানা জরিপ বলছে এই সরকারের আমলে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী দুর্নীতিতে সবচেয়ে ওপরে রয়েছে। খুব দ্রুত রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে রেখে কঠোর ব্যবস্থার মাধ্যমে এই বাহিনীর জবাবদিহিতা এবং পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা হবে। সম্পূর্ণ দলীয় প্রভাবমুক্ত হয়ে পুলিশ হবে সত্যিকার অর্থেই একটি রাষ্ট্রীয় বাহিনী।
• পুলিশ বাহিনীর ঝুঁকি ভাতা বৃদ্ধি করা হবে। পুলিশ বাহিনীর পেশাদারিত্ব বৃদ্ধিতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
• জাতিসংঘ বাহিনীতে পুলিশের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশের জন্য কল্যাণমূলক প্রকল্প গৃহীত হবে।

৪০তম বিসিএস প্রিলি প্রস্তুতি : আন্তর্জাতিক 

৪০তম বিসিএস প্রিলি প্রস্তুতি
আন্তর্জাতিক
১।কমনও‌য়েলথ এর বর্তমান সদস্য কতটি ?
=৫৩ টি
২। বিশ্ব প্রযুক্তির রাজধানী বলা হয় –
-সিউল, দঃ কোরিয়া
৩।রা‌শিয়ার প্রে‌সি‌ডে‌ন্টের মেয়াদ কত বছর ?
~ ৬ বছর
৪। six party talks কী ?
-ইরান বিষয়ক পরমাণু আলোচনা ( P5 +1)
৫। Extradition Treaty হল?
-অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি
( বাংলাদেশের সাথে এ ধরণের চুক্তি রয়েছে থাইল্যান্ড ও ভারতের সাথে )
৪।সার্কের ১৩তম মহাসচিব এর নাম কী?
-আমজাদ হুসেইন বি সিয়াল
( সার্কের মহাসচিবের মেয়াদকাল ৩ বছর)
৫।জাতিসংঘের মহাসচিবের মেয়াদ কত বছর ?
= ৫ বছর
৬।ওআইসির মহাসচিবের মেয়াদ কত বছর ?
-৪ বছর
৭।চীন ভারতের বিরোধপূর্ণ ডোকলামের অবস্থান কোথায় ?
– দ্রোমো অঞ্চলে
৮।জাতিসংঘের নামকরণ করা হয় কবে?
-১ জানুয়ারি, ১৯৪২ (মার্কিন প্রেসিডেন্ট এফডি রুজভেল্ট)
৯।নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য কত বছরের জন্য নির্বাচিত হয়?
-২ বছরের জন্য।
১০।নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি কত বছরের জন্য নির্বাচিত হয়
-১ মাসের জন্য
১১।জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে কোথায়?
– লন্ডন ১৯৪৬
১২।ইসরায়েল কত সালে মসজিদুল আকসায় আগুন লাগিয়ে দেয়?
-১৯৬৯
১৩।বিপ্লবের শহর বলা হয়?
-হোমস শহরকে।
১৪।European Community-এর নাম পরিবর্তন করে European Union রাখা হয় কত সালে?
=১৯৯৩
১৫।ইউরো মুদ্রা চালুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় কত সালে?
১৯৯৯
১৬।ASEAN কোন ক্ষেত্রে সহযোগিতার ওপর বেশি জোর দেয়?
– অর্থনৈতিক
১৭।USA এর প্রেসিডেন্ট পদের প্রার্থী হতে হলে কত বছর সেখানে বসবাস করতে হয়?
-১৪ বছর
১৬।সম্প্রতি আফ্রিকান ইউনিয়নে পুনরায় যোগদান করেছে কোন দেশ
– মরক্কো।
১৭।চীনের দ্বৈতনীতির মেয়াদ শেষ হবে কত সালে?
=২০৪৭ (হংকং কে ৫০ বছরের জন্য বৃটেনের কাছ থেকে নেয় তারা ১৯৯৭ সালে)
১৮।নেপালের কোন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার সমর্থক ছিলেন?
-গিরিরাজা প্রাসাদ কৈরালা
১৯।দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা কে?
– জন গারাং

২০।বুলস আই কথা‌টি ব্যবহৃত হয় –
আর্চারি
২১। জকী কথা‌টি ব্যবহৃত হয়~‌
ঘোড়‌দৌ‌ড়ে

খুবির জীব বিজ্ঞান স্কুলের নতুন ডিনের দায়িত্বগ্রহণ

খুবির জীব বিজ্ঞান স্কুলের নতুন ডিনের দায়িত্বগ্রহণ

আজ ১৭ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১১টায় আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের জীব বিজ্ঞান স্কুলের ডিন অফিসে ডিনের দায়িত্ব হস্তান্তর ও দায়িত্বগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে জীব বিজ্ঞান স্কুলের অধীন সকল ডিসিপ্লিন প্রধান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এসময় জীব বিজ্ঞান স্কুলের বিদায়ী ডিন প্রফেসর এ কে ফজলুল হক স্কুলের নতুন ডিন প্রফেসর ড. মোঃ রায়হান আলীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। নতুন ডিন জীব বিজ্ঞান স্কুলের অগ্রগতির জন্য পুরাতন ডিনের নেতৃত্বের প্রশংসা করে তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং ডিসিপ্লিন সমূহের প্রধানসহ শিক্ষকবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করেন।

পুরাতন ডিন এই স্কুলের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধি অর্জনে নতুন ডিন ভূমিকা রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং তাঁর কর্মকালে সহযোগিতার জন্য স্কুলের আওতাধীন সকল ডিসিপ্লিন প্রধান ও শিক্ষকবৃন্দের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার মা হামিদা মুর্তজার হাতে ঝাড়ু : পরিষ্কার হবে নড়াইল

জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার মা হামিদা মুর্তজা একদল তরুণকে নিয়ে ঝাড়ু দিয়ে নড়াইল শহর পরিষ্কার কার্যক্রমে অংশ নিলেন।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে তিনি এ উদ্যোগ নেন। নড়াইল-২ আসনে আওয়ামী লীগের টিকিটে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়তে যাওয়া মাশরাফির প্রতিষ্ঠিত নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন তাঁকে এ কাজে সহায়তা করে।
এ সময় মাশরাফির মামা নাহিদুল ইসলাম, মাশরাফির ছোট ভাই মুরসালিন বিন মুর্তজা, নড়াইল পৌর কাউন্সিলর কাজী জহিরুল হকসহ শতাধিক তরুণ এ কাজে যোগ দেন। রাত ১২টা ১ মিনিটে শহরের রূপগঞ্জ প্রজন্ম চত্বরে গিয়ে এ কার্যক্রম শেষ হয়।

খুবিতে মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে শোভাযাত্রাসহ অদম্য বাংলায় শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ

মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে শোভাযাত্রাসহ
খুবিতে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য অদম্য বাংলায় শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ

আজ ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ যথাযথ মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে সকাল সাড়ে ৬ টায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ভবনের সম্মুখে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

এর পরপরই উপাচার্যের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারি শোভাযাত্রাসহ ক্যাম্পাসে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য অদম্য বাংলা চত্ত্বরে পৌঁছান এবং উপাচার্যের সর্বপ্রথম শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের মধ্যদিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান কর্মসূচি শুরু হয়। এরপরই বিভিন্ন ডিসিপ্লিন, বিভিন্ন আবাসিক হল, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, খুবি স্কুল, খুবি অফিসার্স কল্যাণ পরিষদ, খুবি কর্মচারীবৃন্দ ও বিভিন্ন সংগঠেনর পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।

এ সময় বিভিন্ন স্কুলের ডিন, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), ডিসিপ্লিন প্রধান, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্ট, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারি ও বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর উপাচার্য খানজাহান আলী হলে বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে একটি দেয়ালিকার উদ্বোধন করেন। বিজয় দিবসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিকেল সাড়ে ৪ টায় অদম্য বাংলা সামনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিকেল ৪ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরানো খেলার মাঠে উপাচার্য একাদশ বনাম ট্রেজারার একাদশ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ।

খুবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

খুবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত
লক্ষ্যপ্রাণের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের লালসবুজের
পতাকা যেনো শকুনের হাতে না যায় : উপাচার্য

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে আজ ১৪ ডিসেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়। এ উপলক্ষে সকাল ৯ টায় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শহিদ মিনারে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। এরপরই বিভিন্ন ডিসিপ্লিন, বিভিন্ন আবাসিক হল, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, খুবি অফিসার্স কল্যাণ পরিষদ, খুবি কর্মচারীবৃন্দ ও বিভিন্ন সংগঠেনর পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। পরে সকাল পৌণে দশটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে মুক্তমঞ্চে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রফেসর ড. মোঃ সারওয়ার জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান। তিনি শহিদবুদ্ধিজীবী দিবসের তাৎপর্যসহ ইতিহাসের আলোকে সুদূর সক্রেটিসের আমল থেকে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তীতে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা ও নানা উদাহরণ, প্রসঙ্গ তুলে ধরে সারগর্ভ বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন বুদ্ধিজীবীরা সবসময়ই নিজের চিন্তা-চেতনার কথা অভয়ে তুলে ধরেন। তাদের সে চিন্তায়, তাদের সে লেখায় তারা নানা দিক-নির্দেশনা দিয়ে থাকেন, অগ্রসর চিন্তার কথা বলেন। তারা তাদের এসব কর্মকা-ের কারণে অতীতে রাজা-বাদশা বা ক্ষমতাসীনদের রোষানলে পড়েছেন, তাঁদের হত্যা করা হয়েছে, নির্বাসিত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি সক্রেটিসের বিষপানে মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেন। উপাচার্য আরও বলেন, বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন, সাতচল্লিশে দেশভাগ থেকে শুরু করে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বিভিন্নভাবে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা আমরা দেখতে পারি। বিশেষ করে সাতচল্লিশে দেশ বিভাগের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ববাংলাকে নিয়ে যে স্বদেশ গড়ার বিষয়টি মননে নিয়ে ছিলেন সেখান থেকে বায়ান্নর ভাষা-আন্দোলন, ছেষট্টির ৬ দফা, উনসত্তরের গণঅভ্যুথান এবং মুক্তিযুদ্ধের আগে পরে সবসময়ই বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা আমরা দেখতে পাই। বঙ্গবন্ধুর সাথে বাংলার মাটি ও মানুষকে যে সমস্ত বুদ্ধিজীবী ভালো বাসতেন বঙ্গবন্ধু তাদের সহচার্য পেয়েছেন, পরামার্শ নিয়েছেন। তিনি বলেন বুদ্ধিজীবীরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের অনেক পথ সহজ করে ছিলেন, দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন, জনমত ও বিশ্বমত সংঘঠিত করার ক্ষেত্রে সবিশেষ ভূমিকা পালন করেন। একারণে বুদ্ধিজীবীদেরকে নীল নকশা করে বিজয় দিবসের প্রাক্কালে পাকিস্তানী হানাদার ও তাদের এদেশের দোষর আল-বদর, আল-শামস নৃশংসভাবে হত্যা করে যাতে বাংলাদেশ সামনে এগোতে না পারে। তারা জাতিকে মেধাশুন্য করতে চেয়েছিলো। এই চক্রের দোসররাই আবার পঁচাত্তরের পনেরই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে দেশকে অন্ধকারে নিয়ে যায়। তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেন ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের লাল-সবুজের পতাকা আবার যাতে শকুনের হাতে না যায়, ঘাতকের গাড়িতে না ওঠে সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে। এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি খ্যাতনামা বুদ্ধিজীবী সেই পরাজিত শক্তিকে সাথে নিয়ে মাজার জিয়ারত করছেন। তাই সকল ষড়যন্ত্র সর্ম্পকে আমাদের সজাগ থাকতে হবে যাতে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ যেনো বিফলে না যায়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যাতে হারিয়ে না যায়। আমরা যেনো স্ব-গর্বে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করতে পারি, তাঁর আদর্শ ধারণ করতে পারি, জয়বাংলা শ্লোগান সোচ্চারিত কণ্ঠে উচ্চারণ করতে পারি। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন একাত্তরে অনেক ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও অংশগ্রহণকারী বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মুক্তিযোাদ্ধা প্রফেসর ড. এ কে এম নুরুন্নবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা, ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক কাজী হুমায়ুন কবীর, উপ-পরিচালক (অডিট) শেখ মুজিবুর রহমান ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলা ডিসিপ্লিনের আখন্দ মোঃ খায়রুজ্জামান। সূচনা বক্তব্য রাখেন ছাত্রবিষয়ক পরিচালক প্রফেসর মোঃ শরীফ হাসান লিমন। এ সময় বিভিন্ন স্কুলের ডিন, রেজিস্ট্রার, ডিসিপ্লিন প্রধান, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্ট, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারি ও ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন। পরে উপাচার্য অদম্য বাংলার সামনে চারুকলা আয়োজিত চিত্রকর্ম প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসে অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিলো বাদ যোহর বিশ্ববিদ্যালয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল, সন্ধ্যায় শহিদমিনার ও অদম্য বাংলা চত্ত্বরে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন। এর আগে সকাল ৮-৩০ টায় শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ ভবনের সম্মুখে কালোব্যাজ ধারণ, জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে উপাচার্যের নেতৃত্বে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের প্রাক্কালে এক শোক র‌্যালি বের করা হয়।