৩৪তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডারে প্রথম হয়েছিলেন মুনিয়া চৌধুরী

৩৪তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডারে প্রথম হয়েছিলেন মুনিয়া চৌধুরী। কীভাবে তিনি বিসিএসে এলেন, পড়াশোনা করেছেন কীভাবে, অন্যদের কীভাবে পড়াশোনা করা দরকার—এসব নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

২০০৮ সালে এইচএসসির পর সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু ব্যক্তিগত কারণে আমি ১০ দিনের মাথায় চলে আসি। তখন আমার মনে হয়েছিল এক দিন আগেও তো নৌবাহিনীর একজন সদস্য হিসেবে আমার পরিচয় ছিল, কিন্তু এখন আমি কিছুই না। ওই বছরই আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে ভর্তি হই। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করি। আমি দুই পরীক্ষাতেই প্রথম হয়েছিলাম। কিন্তু শিক্ষকতা পেশায় কখনো যাব, সেটা প্রথম থেকে ভাবিনি।

আমার বাবা ছিলেন বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের চাকরিজীবী। তাঁকে দেখে দেখে আমারও মন টানছিল, আমিও তাঁর মতো হবে। কিন্তু বিসিএস তো সহজ কোনো বিষয় নয়। হব বললেই তো আর হওয়া যায় না। আমার কাছে মনে হয় এটি খুবই অনিশ্চিত একটি বিষয়। কারণ, আমার চেয়েও অনেক মেধাবী এই পরীক্ষায় অংশ নেন। সেটা দেখেছি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে পড়তাম। দেখতাম প্রচুর মেধাবী বিসিএসের জন্য পড়ছেন। আমার মনে হয়েছে, বিসিএসে উত্তীর্ণ হতে পারাটা অনেক বেশি সৌভাগ্যের বিষয়। সেখানে মেধা দরকার হয়। সেখানে প্রস্তুতি থাকতে হয় ও সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদও দরকার হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর আমি পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স অব পাবলিক হেলথ বিষয়ে আমার দ্বিতীয় স্নাতকোত্তর শেষ করি। সেটা শুরু করার আগে থেকেই আসলে আমি বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। দ্বিতীয় মাস্টার্স করার সময় কিছুদিন আমি শিক্ষকতাও করেছি। আমি ৩৪তম বিসিএসে অংশ নিই। এটা শুরুর সময় অর্থাৎ প্রিলিমিনারি পরীক্ষা থেকে চাকরিতে যোগদানের সময় পর্যন্ত সাড়ে তিন বছর সময় লেগেছিল। এই সাড়ে তিন বছরে আসলে আমি পড়ালেখার ভেতরেই ছিলাম। এর মধ্যেই আবার একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র অফিসার হিসেবেও কাজ করেছি।

কিন্তু মনটা সব সময় পড়েছিল ক্যাডার সার্ভিসের দিকেই। আমি মনে করি, বিসিএসে উত্তীর্ণ হতে হলে এই প্যাশন থাকতেই হবে। শুধু পড়লেই হবে না। যেমন আমি পড়েছি, আমি দিয়েছি, আমি হয়ে যাব, বিষয়টা আসলে এমন নয়। আসলে প্যাশনটা এমনই হতে হবে, আমি হতে চাই।

এখানে একটি কথা আমি বলব, যার যেটা প্যাশন, যে যেটা হতে চায়, সেটির পেছনেই সময় দেওয়া উচিত। সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। তাহলে লক্ষ্যে পৌঁছানোটা অনেকটাই সহজ হবে।

কারও পড়ার ধরন অনুসরণ করার দরকার নেই। সবাই সবার মতো হবে না, এটাই স্বাভাবিক। একেকজনের পড়াশোনা করার ধরন আলাদা। কেউ যদি বুঝতে পারে তার ধরনটা কেমন, সেটা মেনেই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।

প্রিলিমিনারির সময় আমি কোনো কিছু পড়লে তা একটু বিস্তারিত পড়তাম। কেননা, লিখিত পরীক্ষার জন্য খুব একটা সময় পাওয়া যায় না।

লিখিত পরীক্ষার সময় চেষ্টা করেছি পয়েন্ট পয়েন্ট করে লিখতে। যেমন জাতিসংঘের কোনো সংস্থা নিয়ে লেখার সময় প্রথমে এটার পূর্ণ নাম, গঠনের সাল, মূল উদ্দেশ্য—এগুলো লিখে পরে ফিচার আকারে লিখতাম। আমি লেখার সময় সব প্রশ্নের সমানভাবে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কোনো প্রশ্নে বেশি, আবার কোনো প্রশ্নে কম লেখা লিখিনি।

শিক্ষক যেন আমার লেখা দেখেই বুঝতে পারেন, এটা অন্যদের থেকে আলাদা। তাহলে ভালো নম্বর আসবে। আমি সেভাবেই লিখিত পরীক্ষা দিয়েছি।

আমার দুই সন্তান। আমার স্বামী মো. আশরাফ সাদেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক। বাবা সরকারের সাবেক সচিব চৌধুরী মো. বাবুল হাসান। মা শাহীনা চৌধুরী গৃহিণী। আমরা তিন বোন এক ভাই।

 

প্রথমবারের মতো ফেডারেশন কাপ জয় করল বসুন্ধরা কিংস

আজ বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের ফাইনালে ম্যাচের ৪১ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে যায় বসুন্ধরা কিংস। ডি বক্সের ডান দিক থেকে বাতাসে ভাসানো পাস দেন বিশ্বনাথ ঘোষ। অনেকটা লাফিয়ে বাঁকানো হেডে দারুণ এক গোলেলকে বসুন্ধরাকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক ড্যানিয়েল কলিনড্রেস (১-০)।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কলিনড্রেস-নাজারভ-সুফিলের দারুণ এক আক্রমণ ছিল। তবে সুফিলের হেড সহজেই লুফে নেন রহমতগঞ্জের গোলরক্ষক রাসেল মাহমু লিটন।

উলল্টো ম্যাচের ৬৪ মিনিটে শাহেদুলের কর্নার কিক থেকে বসুন্ধরা কিংসের ডিফেন্ডারদের ওপর দিয়ে অনেকটা লাফিয়ে মাথা নিচু করা হেডে দারুণ গোলে রহমতগঞ্জকে সমতায় ফেরান গাম্বিয়ান ফুটবলার মামাে বাহ (১-১)।

ম্যাচের ৭৪ মিনিটে মাঠে নামেন ইমন, সুফিলের পরিবর্তে। কিংসের খেলার গতি আরও বেড়ে যায়। ঠিক দুই মিনিট পরই দারুণ এক গোলে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক ড্যানিয়েল কলিনড্রেস। ৭৬ মিনিটে রহমতগঞ্জের কামারা ব্যাক পাস দেন গোলরক্ষক রাসেলকে। তিনি বল নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি।

পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা বিশ্বকাপ খেলা কোস্টারিকান তারকা ড্যানিয়েল কলিনড্রেস বল কেড়ে নিয়ে ধীরে সুস্থে গোল করেন। গোলরক্ষক পাশে দাঁড়িয়ে কেবল চেয়ে চেয়ে দেখেন। তুরায়েভ অবশ্য ডিফেন্ড করতে দৌড় দিয়েছিলেন। কিন্তু ততোক্ষণে বল জালে জড়িয়ে যায় (২-১)।

এরপরও আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ হয়। তবে গোলের দেখা পায়নি কোন দলই। টানা দ্বিতীয় ফাইনাল খেলে ফেডারেশন কাপের প্রথম শিরোপা জিতেই ঘরে ফিরে অস্কার ব্রজোনের শিষ্যরা।