দুর্যোগ মুহূর্তে দেশের মানুষের পাশে থাকতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালুমনাই এসোসিয়েশন (কুয়া) সর্বদা বদ্ধপরিকর

বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস (Covid19)-এর প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশের দুর্যোগ মুহূর্তে দেশের মানুষের পাশে থাকতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালুমনাই এসোসিয়েশন (কুয়া) সর্বদা বদ্ধপরিকর । এই প্রাদুর্ভাবের প্রাথমিক পর্যায়ে অতিদ্রুততার সাথে কুয়া কার্যনির্বাহী পর্ষদ ১.৫ লক্ষাধিক টাকার ফান্ড গঠন করে এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরী করে যা গতকাল ২২শে মার্চ তারিখে খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকার সীমিতসংখ্যক ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে (খুলনা মেডিকেল কলেজ , খুলনা সদর হাসপাতাল , রেল স্টেশন , খুলনা সিভিল সার্জন অফিস, হোমকোরাইনটাইনে কর্মরত পুলিশ সদস্য , বিশ্ববিদ্যালয় ক্লিনিক , ছুটির পরও কর্মরত কর্মচারী , বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাঙ্ক , গুরুত্বপূর্ণ কিছু এটিএম বুথ) বিতরণ করা হয় ।

 

পাশাপাশি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সচেতনতামূলক প্রচারনা এবং স্যানিটাইজার/মাস্ক ব্যবহারবিধি সম্পর্কে অবহিত করা হয় । এই কার্যক্রম প্রাথমিকভাবে ৩০শে মার্চ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এই কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিদিন ১০০ লিটার অ্যালকোহলসহ অন্যান্য জিনিসপত্র নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে এবং প্রতিদিনকার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮০,০০০ টাকা। আজ বিকেলের মধ্যে আগামী দুদিনের জন্য ২০০ লিটার কাঁচামাল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় পৌছে যাবে।

 

খুলনার মেডিকেল সেন্টারগুলোতে মাস্ক স্বল্পতা বিবেচনায় নিয়ে কুয়া ১০০০ পিস মাস্ক সংগ্রহ করেছে, যা ঢাকা হতে খুলনার পথে রয়েছে। কুয়া’র এই উদ্যোগ বর্তমান চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। উল্লেখ্য যে, কুয়া অতিদ্রুততার সাথে খুলনায় অবস্থিত বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকদের মাঝে PPE প্রদানে ঐকান্তিক চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে । স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অনুমোদনকৃত PPE সংগ্রহের লক্ষ্যে প্রস্তুত করণের জন্য প্রক্রিয়া চলমান। এই সকল জিনিষপত্রের প্রদানের ক্ষেত্রে কিছু উপস্থিত বিবেচনা দিয়ে অনুক্রম করা হয়ে থাকে, যেমনঃ ঝুঁকির মাত্রা, আর্থিক সক্ষমতা সহ কাজের ধরণ বিবেচনা এবং যেসব চিকিৎসা সেবক সরাসরি Covid-19 রোগীর সংস্পর্শে কাজ করছেন ।

আমরা সাধুবাদ জানাই আমাদের সেইসব ভাই-বোনদের যারা কুয়া’র কর্মকান্ডে স্বেচ্ছাশ্রম দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। গতকাল দেশ-বিদেশ থেকে কুয়ার সম্মানিত সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং অনেকে ফোনের মাধ্যমে দেশের এই পরিস্থিতিতে কুয়ার মাধ্যমে পরিচালিত সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আমরা বরাবরের মত কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি দেশে এবং বিদেশে আমাদের সেই সব আঞ্চলিক কুয়া পরিবারকে (KUAA North America, Jessore, Cox’s Bazar) যারা স্বপ্রনোদিত হয়ে আর্থিকভাবে কুয়া’র এই প্রচেষ্টায় শরীক হতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং অর্থ সংগ্রহের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে PPE, Hand Sanitizer, Mask এর বিশাল চাহিদার বিপরীতে কুয়া পরিবার তার সর্বোচ্চ অবদান রাখতে বদ্ধপরিকর। কুয়া’র এই ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সকল সদস্য নিম্নলিখিত মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা দিয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেন।

*ব্যাংক একাউন্টঃ* ( টাকা জমা রশিদে নিজের নাম অথবা রোল নম্বর উল্লেখ করবেন)
==============================
একাউন্ট নামঃ KUAA REUNION 2015
একাউন্ট নম্বরঃ ১২৬.১৫১.৬১২৯৩
ব্যাংক নামঃ ডাচ্ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড
শাখাঃ এলিফ্যান্ট রোড শাখা, ঢাকা।

এছাড়াও KUAA Webpage-এ Donation/Wellfare Fund নামে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে যেখান থেকে Debit/Credit Card/BKash/Rocket -এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা দিয়ে সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করতে পারেন।

আমরা দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি আমাদের সমষ্টিগত শক্তিই আমাদের আগামীর পাথেয়।

ধন্যবাদান্তে,
ফজলে রেজা সুমন Fazle Reza Sumon
সাধারন সম্পাদক
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালুমনাই এসোসিয়েশন(কুয়া)

খুবির রসায়ন ডিসিপ্লিনের পর এবার ল্যাবে হ্যান্ড সেনিটাইজার তৈরি করলো এ্যাগ্রোটেকনোলজি এবং ফার্মেসী

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বিশেষ করে সতর্কতামূলক প্রতিরোধব্যবস্থা হিসেবে হ্যান্ড সেনিটাইজারের ব্যবহার বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন ডিসিপ্লিনের গবেষণা ল্যাবে ইতোমধ্যেই বিশ্বমানের হ্যান্ড সেনিটাইজার তৈরি করা হয়েছে। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিন এবং ফার্মেসী ডিসিপ্লিনও স্ব-স্ব ল্যাবে হ্যান্ড সেনিটাইজার তৈরি করলো।

আজ রবিবার দুপুরে প্রথমে রসায়ন ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরার নেতৃত্বে এ কাজে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামানের সাথে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করে তৈরিকৃত হ্যান্ড স্যানিটাইজারের স্যাম্পল হস্তান্তর করেন।

পরে বিকেল চারটায় এ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান (চলতি দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মোঃ সারওয়ার জাহানের নেতৃত্বে ল্যাবে এ কাজে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপাচার্যের সাথে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে এই স্যানিটাইজার তৈরির ব্যাপারে শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের একান্ত প্রচেষ্টার কথা ব্যক্ত করে ৫০০ বোতল হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিনামূল্যে বিতরণের উদ্যোগের কথা জানান।

একই সময়ে তাঁদের তৈরিকৃত হ্যান্ড স্যানিটাইজারের স্যাম্পল উপাচার্যের কাছে হস্তান্তর করেন। অপরদিকে, বিকেল সাড়ে পাঁচটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. আশীষ কুমার দাশ উপাচার্যের সাথে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করে ডিসিপ্লিনের ল্যাবে তৈরিকৃত হ্যান্ড স্যানিটাইজার হস্তান্তর করেন।

ডিসিপ্লিন প্রধান তাঁদের তৈরিকৃত হ্যান্ড স্যানিটাইজারের বিশেষ দিক উল্লেখ করেন। উপাচার্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন, এ্যাগ্রোটেকনোলজি এবং ফার্মেসী ডিসিপ্লিনের ল্যাবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং মানবকল্যাণে এ ধরণের আরও প্রচেষ্টা গ্রহণের আহ্বান জানান।

তিনি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলকে সম্মিলিত প্রচেষ্টার পাশাপাশি আতঙ্কিত না হয়ে নিজ নিজ পরিবার ও প্রতিবেশিদের মধ্যে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ প্রদানের আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি তৈরিকৃত হ্যান্ড স্যানিটাইজার যাদের ক্রয়ের সামর্থ নেই তাদের মধ্যে বিতরণেরও পরামর্শ দেন। তিনি এই রোগ থেকে মুক্তির জন্য সবার কল্যাণ কামনা করেন।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ ও রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মিরপুরের ডেলটা হসপিটালের করোনায় আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর বিস্তারিত জানালেন পুত্র

পিতার মৃত্যু এবং সন্তানের ব্যর্থতা-
আমি কখনো ভাবি নি যে আমার পিতার মৃত্যুর ঘটনা আমাকে এই ভাবে লিখতে হবে কিন্তু কিছু মিডিয়ার মিথ্যা রিপোর্ট দেখে আমি বাধ্য হলাম ফেসবুকে কিছু সত্য প্রকাশ করতে।

গত ১৬ তারিখে আব্বা আসুস্থ বোধ করলে আমাদের ড্রাইভার ঐ দিন বিকালে উনাকে কল্যানপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসে। ঐ সময় আমরা ভাইরা সবাই অফিসে। আমি অফিস থেকে বাসায় এসে শুনলাম ডাক্তার সাসপেক্ট করছে, উনার করোনা হয়েছে এবং কোভিড ১৯ টেস্ট এর জন্য সাজেস্ট করেছে। অতঃপর ঐ রাত্রেই আমরা উক্ত টেস্ট এর জন্য IEDCR এর হান্টিং নাম্বারে ফোন দেওয়া শুরু করি।

প্রায় দেড় ঘন্টা পর তাদের সাথে আমরা কম্যুউনিকেশন করতে সমর্থ্য হই, তারা আমাদেরকে জানায় যেহেতু অসুস্থ ব্যাক্তি বিদেশ ফেরত না এবং বিদেশ ফেরত কোনো ব্যাক্তির সংস্পর্শে উনি আসেননি সেহেতু এই টেস্ট উনার জন্য প্রযোজ্য নয়। আমি তাদেরকে বলেছিলাম, উনি নিয়মিত মসজিদে যান এবং ঐখান থেকে এই ভাইরাস আসতে পারে কিনা। তারা আমাদের বলেলেন যে, এই ভাইরাস বাংলাদেশের কমিউনিটিতে মাস লেভেলে এখনো সংক্রমিত হয়নি। সুতরাং আপনারা চিন্তা করবেন না, এটা সাধারন শ্বাস কষ্টের প্রব্লেম।

ঐ রাত্রেই আনুমানিক ১০.৩০ এ আমি উনাকে শ্যামলীর একটি বড় হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং আমাদের পরিচিত একজন স্পেশালিষ্ট ডক্টরকে দেখাই। উনি আমাকে বলেন, রুগীর নিউমোনিয়া হয়েছে, উনাকে নিউমোনিয়ার ট্রিটমেন্ট দিতে হবে, তবে বাংলাদেশের কোনো হাসপাতাল এই রুগির ভর্তি নিবে না, আপনারা বাসায় ট্রিটমেন্ট করেন। আমি ঐ রাত্রে বাসায় চলে আসি এবং আব্বাকে নেবুলাইজার এবং মুখে খাওয়া এন্টিবায়োটিক দিতে থাকি। পরের দিন ১৭ তারিখে দুপুরে আমি আব্বাকে নিয়ে যাই শ্যামলীর ঐ হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে।

তারা রুগি দেখে বলেন যে, রুগির অবস্থা ভালো না, উনাকে আইসিউ সাপোর্ট দিতে হবে কিন্তু তাদের আইসিউ তারা দিতে পারবে না। এরপর আমি কেয়ার হাসপাতালে কথা বলি। ওরা বলে ওদের আইসিউ খালি আছে। আমরা দ্রুত আব্বাকে নিয়ে কেয়ার হাসপাতালে যাই এবং আইসিউতে ভর্তি করি। ১৫ মিনিট পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের বললেন, এই রুগী তারা রাখতে পারবে না। অতঃপর আমরা রুগী নিয়ে কল্যানপুরের একটি হাসপাতালে যাই। তারা আমাদেরকে কেবিন দিয়ে সাহায্য করে কিন্তু তাদের আইসিউ খালি নেই। আমি তখন স্কয়ারে ফোন দিলাম আইসিউ এর জন্য।

কিন্তু স্কয়ার আমাদেরকে বললো, রুগী ছাড়া শুধু কাগজ পত্র নিয়ে আসতে। তারা কাগজ পত্র দেখে ভালো মনে করলে রুগী ভর্তি করবে। রাত আনুমানিক ১২.৩০ এ হাসপাতালের ডাক্তার আমাকে বললেন এই রুগীর আইসিউ লাগবে, আপনারা দ্রুত আইসিউ এর ব্যবস্থা করেন। আমি বিভিন্ন হাসপাতালে কথা বলতে থাকি, কোথাও আইসিউ খালি নেই। অতঃপর ডেল্টা হাসপাতাল তাদের আইসিউ দিতে রাজি হয়। আমি এবং আমার ছোট ভাই রাত্রে ৪ টার সময় আব্বাকে নিয়ে ডেল্টাতে আসি এবং দুপুর ১২টার পর থেকে আব্বা লাইফসাপোর্টে চলে যান।

১৮ তারিখ দুপুর থেকে আমরা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ IEDCR এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। অতঃপর ১৯ তারিখ বিকালে IEDCR রাজি হয় এবং রাত্রে টেস্ট করে এবং পরের দিন ২০ তারিখ দুপুরে তারা আমাদেরকে জানায় যে রিপোর্ট পজেটিভ। আমাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলে ১৫ দিন।

রিপোর্ট পজেটিভ আসার পর থেকে ডেল্টা হাস্পাতাল আমাদের প্রেশার দিতে থাকে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়ার অনুমোদন দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমরা অনুমতি না দিয়ে তাদেরকে বলতে থাকি ট্রিটমেন্ট চালিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু তারা আর রুগীর কাছেও যায় নি এবং আমাদেরকে আইসিউ এর ভেতর ঢুকতেও দেয় নি। যাই হোক আমার আব্বু আবশেষে ২১ তারিখ ভোর তিন টার সময় ইন্তেকাল করেন।

আমরা সন্তানরা ব্যর্থ পিতার সঠিক ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা করতে এবং এমনকি তার জানাজাতে উপস্থিত থাকতে। সন্তান হিসেবে, একজন পুত্র হিসেবে এর চেয়ে কঠিন কষ্ট আর কিছুই হতে পারে না। আমরা বুকে পাথর বেঁধে বাসায় অবস্থান করছি সরকারের আইন মেনে ১৫ দিনের জন্য। কিন্তু কিছু পেইজ এবং ফ্রন্ট লাইনের মিডিয়া আমাদেরকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে যে, আমার ভগ্নিপতি বিদেশ থেকে আমাদের বাসায় এসেছে, যেটা সম্পুর্ণ মিথ্যা কথা।

আমার দুই ভগ্নিপতি। বড় বোন এবং তার হাজবেন্ড চিটাগং এর দুটি সরকারি কলেজের অধ্যাপক। অন্য ভগ্নিপতি জাপান থাকে। সে গত এক বছরের মধ্যে দেশে আসেনি। আমার বাবা যেদিন আইসিউতে লাইফ সাপোর্ট এ চলে যান সে দিন মানে, ১৯ তারিখ আমার বড় বোন এবং দুলাভাই চিটাগং থেকে আমাদের বাসায় আসেন এবং বর্তমানে তারাও আমাদের সাথে হোম কোয়ারেন্টাইন পালন করছে।

আমাদের এই বিপদের সময় দয়া করে আমার পরিবার সম্পর্কে মিথ্যা রিপোর্ট করবেন না। এখন পর্যন্ত আমাদের পরিবারের বাকি সদস্যরা সুস্থ আছে। কারো মধ্যে করোনার লক্ষন দেখা দেয়নি। আমার ছোট ভাই এবং ড্রাইভার অসুস্থ বোধ করায় কভিড ১৯ টেস্ট করানো হয়েছে যার ফল নেগেটিভ এসেছে। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন যেন আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করেন এবং হেফাজত করেন বাংলাদেশের সবাইকে
আমিন..

ঢাকার মধ্যে করোনা সন্দেহে শুধুমাত্র এই হাসপাতাল গুলোতে যোগাযোগ করুন

ঢাকার মধ্যে করোনা সন্দেহে শুধুমাত্র এই হাসপাতাল গুলোতে যোগাযোগ করুনঃ

১।সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল
(Infectious Disease Hospital)
ঠিকানাঃমহাখালী বাস স্ট্যান্ড এর সামনে ,ঢাকা।

২।কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল
ঠিকানাঃ এম ই এস বাস স্ট্যান্ড এর সামনে,
হোটেল রেডিসনের বিপরীত পাশে,ঢাকা।
ফোন নাম্বারঃ +880255062350, 55062201,
55062349

৩।কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল
ঠিকানাঃ ঈশাখা এভিনিউ, রাজউক কলেজের পাশে, উওরা,ঢাকা
মোবাঃ 01999-956290

৪।ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতাল
ঠিকানাঃ বাবু বাজার ব্রিজ,পুরান ঢাকা
ফোনঃ 02- 57390860

৫।রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল
ঠিকানাঃ মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের বিপরীতে,ঢাকা

৬।মিরপুর-১ মাতৃসদন হাসপাতাল

এই ৬টি হাসপাতালেই কেবল আপনারা যোগাযোগ করুন কারন অন্য হাসপাতাল গুলোতে করোনা চিকিৎসার জন্য যথাযথ সামগ্রী নেই। তাই হয়রানীর শিকার না হয়ে উপরোক্ত হাসপাতালে যান।।

আর করোনার লক্ষন গুলো আপনাদের মাঝে থাকলে
আইইডিসিআর (IEDCR) এ খবর দিন।
যোগাযোগঃ
16263
01550064901-05
01401184551
01401184554-56
01401184559-60
01401184563
01401184568
01927711784-85
01937000011
01937110011

খোলা চিঠি!!! করোনা সংকটে গর্ভবতী মায়েদের বলছি

দেশের এই সংকটকালীন সময়ে সবচেয়ে বেশি সংকটে আছি আমরা ডাক্তাররা, পেশাগত কারণে। কিন্তু সাধারন জনগণের মধ্যে বাচ্চা এবং বৃ্দ্ধের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি সংকটে আছেন আপনারা গর্ভবতীরা। গর্ভকালীন সময়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এই সময় যেকোন ভাইরাস সংক্রমনের আশঙ্কা সাধারনের চেয়ে ৫.৭ গুন বেশি। জটিল কোন প্রবলেম না থাকলে এক দু’মাস চেকআপ না করালে আপনার তেমন ক্ষতি হবে না। বরং চেকআপ করতে গিয়ে চেম্বার, ডায়াগনষ্টিক সেন্টার বা হাসপাতাল থেকে আপনি নিয়ে যেতে পারেন ভাইরাস।

চেকআপের ডেট আছে। কি করবেন?

অসুবিধা নেই। এটা আদালতের দেয়া ডেট না। না আসলে আপনাকে পুলিশ গিয়ে ধরে নিয়ে এসে জেলে পুরবে না।
তাহলে কি করবেন?
১)আগের প্রেসক্রিপশনের ওষুধগুলোই চালিয়ে যান।
২)বাসায় প্রেসার মাপা মেশিন থাকলে মাঝে মাঝে নিজেরাই প্রেসার চেক করুন ।
৩)বাচ্চার নড়াচড়া খেয়াল রাখুন।
৪)ওজন বাড়ছে কি না খেয়াল রাখুন। বাসায় ওজন মাপার মেশিন থাকলে প্রতি মাসে ওজন দেখে নিন।
৫)নতুন কেন সমস্যা দেখা দিলে বা কোন অসংগতি মনে হলে ফোনে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন।
৬)সকল সামাজিকতাকে পাশ কাটিয়ে একা একা নিজের মত থাকুন। আপনার সঙ্গে তো একজন আছেই সবসময়। আপনার ভবিষ্যত সন্তানের সাথে কথা বলুন। তার সুরক্ষার জন্য নিজেকে আড়ালে রাখুন।
৭)প্রয়োজন ছাড়া কোনভাবেই ঘরের বাইরে যাবেন না।
৮)মাঝে মাঝে হাত-মুখ সাবান-পানি বা স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করুন। বারবার মুখে-চোখে হাত দিবেন না।
৯)বাইরে থেকে কেউ আসলে সে পরিচ্ছন্ন না হওয়া পর্যন্ত দুরত্ব রক্ষা করে চলুন।
১০)হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার নিজে মেনে চলুন। এবং বাসার সকলকে এটি মনে চলতে বাধ্য করুন।
১১)বাড়ীতে কারো সর্দি-কাশি হলে তাকে কিছুটা আলাদা করে রাখুন। কোনভাবেই তার কাছাকাছি যাবেন না। এমনকি আপনার বাচ্চা হলেও না। তাকে পরিবারের অন্য কোন সদস্যের কাছে দেখভালের জন্য রাখুন।
১২)আপনার সর্দি-কাশি হলে সাথে সাথে ডাক্তারের কাছে না গিয়ে ফোনে আপনার ডাক্তারকে উপসর্গগুলো জানান। তাঁর পরামর্শ মোতাবেক ওষুধ পথ্য খান।

কোভিড১৯ যেহেতু একটি নতুন সংক্রমন, এই সম্পর্কে জানি আমরা অল্পকিছুই। আমরা এখনও জানিনা, আপনি এই ভাইরাস আক্রান্ত হলে আপনার গর্ভস্থ সন্তানের কোন ক্ষতি হবে কি না বা সে এই সংক্রমন বহন করবে কি না! তবে অল্প কিছু গর্ভবতীর সময়ের পূর্বেই ডেলিভেরি হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। সেটির সঠিক কারন জানা যায়নি।

ডেলিভেরির সময় কি করবেন?

আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নির্দিষ্ট হাসপাতালে ডেলিভেরি করান। তবে সংক্রমন এড়াতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
ডেলিভেরির সময় বা পরে আত্মীয়-স্বজনের ভিজিট প্রত্যাহার করুন। বাচ্চা দেখতে চাইলে ছবি তুলে অনলাইনে পাঠিয়ে দিন কিংবা সেটি সম্ভব না হলে সন্তানের সুস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে তাদের অপেক্ষা করতে বলুন। বাচ্চা একটু দেরি করে দেখলে মহাভারত শুদ্ধ বা অশুদ্ধ কোনটাই হবে না। বরং এই মুহূর্তে আপনার এবং বাচ্চার শুদ্ধ থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ।

বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়াবেন কি না ?

ভাইরাসটি নতুনভাবে সনাক্ত হওয়ার কারণে এ সম্পর্কে আমরা জানিনা যে এটি বুকের দুধের মাধ্যমে সন্তানের শরীরে প্রবেশ করে কি না! তবে যেহেতু বুকের দুধ বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, আপনারা বুকের দুধ নিয়মমতোই খাওয়াবেন। তবে বাচ্চাকে স্পর্শ করার পূর্বে নিয়ম মেনে হাত পরিষ্কার করে নিবেন ।অযথা বাচ্চার চোখে-মুখে বা শরীরে হাত দিবেন না।

একটা বিষয় মনে রাখবেন, যেকোন নতুন রোগ বা সংক্রমন হলে সেটি সম্পর্কে বিস্তারিত গবেষণালব্ধ ফল পেতে সময় লাগে। অল্প কিছু স্যাম্পল পরীক্ষা করে এমনিয়োটিক ফ্লুইড(বাচ্চার থলিতে থাকা পানি) এবং বুকের দুধের মধ্যে করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়নি। কিন্তু এই দুই মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ায় না এটা নিশ্চিত করে বলতে আরও গবেষণা আবশ্যক, যা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। কাজেই আমরা সবটাকেই আমলে নিয়ে সাবধানে থাকবো।

ভাল থাকুন সন্তানধারী সকল মা এবং তাদের সন্তানেরা।

ডা.ফাহমিদা শিরীন নীলা
এমবিবিএস; এফসিপিএস(অবস্ এন্ড গাইনী), ফিগো ফেলো(ইটালী)
গাইনী বিশেষজ্ঞ
বগুড়া।
২১/০৩/২০২০ ইং।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে হ্যান্ড সেনিটাইজার তৈরি করেছে রসায়ন ডিসিপ্লিন

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে হ্যান্ড সেনিটাইজার তৈরি করেছে রসায়ন ডিসিপ্লিন। হ্যান্ড সেনিটাইজার সংগ্রহ করা যাবে আগামি রবিবার সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন ডিসিপ্লিনে, ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ডা. মোসম্মৎ হোসনে আরা ম্যামের তত্ত্বাবধানে ডিসিপ্লিনের ল্যাবে Hand Sanitizer প্রস্তুত করা হয়েছে । আগামী রবিবার থেকে এটি সংগ্রহ করতে পারবেন।। ❤️❤️❤️❤️❤️

প্রয়োজনে যোগাযোগ করুনঃ মোঃ আবু রায়হান খান, প্রভাষক, রসায়ন ডিসিপ্লিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।


প্রয়োজনে যোগাযোগ করুনঃ
মোঃ আবু রায়হান খান
প্রভাষক, রসায়ন ডিসিপ্লিন
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।
Contact No. +8801761042083
Time: 10 am – 4 pm (এই সময়েই কল দেবেন)

বিখ্যাত ডা. দেবী শেঠী করোনা নিয়ে যা বলেছেন Dr Devi Shetty | Corona Virus Issue

বিখ্যাত ডা. দেবী শেঠী করোনা নিয়ে যা বলেছেন
করোনাভাইরাসের অন্যতম একটি উপসর্গ হচ্ছে জ্বর। কিন্তু জ্বর হলেই করোনাভাইরাসের পরীক্ষা না-করার পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠী। তার মতে, অতিরিক্ত পরীক্ষা ভবিষ্যতে বিপদ বাড়াবে। কেননা চাহিদার তুলনায় করোনা পরীক্ষার কিট অপ্রতুল।
ডা. দেবী শেঠীর মতে, যদি কারও ফ্লু বা সর্দি থাকে, প্রথমে নিজেকে আইসোলেশন করে লক্ষণ ভালো করে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। প্রথম দিন শুধু ক্লান্তি আসবে। তৃতীয় দিন হালকা জ্বর অনুভব হবে। সঙ্গে কাশি ও গলায় সমস্যা হবে। পঞ্চম দিন পর্যন্ত মাথায় যন্ত্রণা হবে। পেটের সমস্যাও হতে পারে। ষষ্ঠ বা সপ্তম দিনে শরীরে ব্যথা বাড়বে এবং মাথার যন্ত্রণা কমতে থাকবে। তবে পেটের সমস্যা থেকেই যাবে। অষ্টম ও নবম দিনে সব লক্ষণই চলে যাবে। তবে সর্দির প্রভাব বাড়তে থাকে। এর অর্থ আপনার প্রতিরোধক্ষমতা বেড়েছে এবং আপনার করোনা-আশঙ্কা নেই।
এই চিকিৎসক বলেছেন, ‘এসব ক্ষেত্রে আপনার করোনা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। কারণ শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গেছে। তবে যদি অষ্টম বা নবম দিনে আপনার শরীর আরও খারাপ হয়, করোনা-হেল্পলাইনে ফোন করে অবশ্যই পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে।”
তথ্যসূত্র: এই সময়

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে কি ছিল!!

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণ বাংলায় হুবুহু তুলে ধরা হলোঃ

প্রিয় কানাডাবাসী,
আমি জানি আজ সবাই কঠিন সময় পার করছেন৷ আশা করি এই বিপদ আমরা কাটিয়ে উঠবো। তবে সেই জন্য আপনাদের সাহায্য আমার দরকার।

আপনাদের জন্য আমি আজ প্রধানমন্ত্রী, জনগনের সেবা ও নিরাপত্তা দেয়া আমার প্রধান কাজ, আমি চাইলে নিজে ঘরে বন্দি থাকতে পারতাম, তবুও রিক্স নিয়ে আপনাদের খোজ খবর নিচ্ছি, বের হচ্ছি। কারণ আপনারাই আমার অক্সিজেন। আপনারা সুস্থ থাকলেই আমি সুস্থ। আপনাদের থেকে গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে কিছুই নেই।

আপনাদের কাছে অনুরোধ আপনার ১ মাস নিজ বাসায় অবস্থান করুন।
শুধু মাত্র মেডিসিন+ প্রয়োজনীয় খাবার+ পানীয় দোকান গুলো খোলা রাখবেন৷

তবুও সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি নাগরিকের বাসায় ১ মাসের যাবতীয় সব ধরনের খাবার পানি মেডিসিন মাস্ক আমরা পৌছে দিচ্ছি। তাছাড়া আপনাদের যখন যা লাগে আপনাদের দেয়া নাম্বারে যোগাযোগ করবেন।

আপনাদের বাসায় সব কিছু পৌছে দেয়া হবে। তবুও বের হবেন না।

ভয় নেই কাউকে অনাহারে মরতে হবে না। আপনারা নিজ বাসায় অবস্থান করুন৷ সচেতন থাকুন।

আপাতত আমাদের দেশ লক ডাউন করে দিচ্ছি।।পরিস্থিতি ঠিক হলে আবার খুলে দিব। আমার উপর আপনারা আস্থা রাখুন।
আপনারা যারা অফিস আদালত কিংবা অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজে নিয়োজিত ছিলেন, আপনাদের কারো কাজে যেতে হবে না। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অফিস কারখানা বন্ধ ঘোষনা করলাম।।
ভয় নেই, আপনাদের সবার একাউন্টে আপনাদের মাসিক বেতনের টাকা পৌছে যাবে।

শুধু তাই নয় আপনারা যারা বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন, সেই ভাড়াও সরকার বহন করবেন।
এসব নিয়ে একটুও চিন্তিত হবার কারন নেই। আপনাদের ভালো রাখাই আমার কাজ।
যারা সরকারের নিয়ম মানবে তাদের এক কালিন অতিরিক্ত অর্থ পুরস্কার দেয়া হবে।

করোনা আজ পুরা দুনিয়ার এক আতংকের নাম। আপনাদের সবার সহযোগিতা দরকার। আপনার কেউ ঘর থেকে বের হবেন না।
বাসায় থাকুন এবং সচেতনার সাথে থাকুন। আশা করি শীঘ্রই আমরা এই সংকট কাটিয়ে উঠবো।
এই জন্য প্লিজ আপনারা আমাকে সহযোগিতা করুন।

ধন্যবাদ।

গবেষণায় করোনা সম্পর্কে যেসব তথ্য পেলেন ২৫ বিজ্ঞানী Corona News Update

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে চীনে ২৫ জন বিজ্ঞানী গিয়েছিলেন করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণা করতে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন কীভাবে রোগ ছড়ায় আর কারা বেশি আক্রান্ত হন।

এক নজরে করোনাভাইরাস:
• সব চেয়ে কম সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা শিশুদের
• কভিড-১৯ এর সচরাচর উপসর্গ জ্বর, শুকনো কাশি আর ক্লান্তি
• আক্রান্তদের গড় বয়স ৫১
• বাদুড়কে মনে করা হচ্ছে উৎস। কিন্তু এর মধ্যবর্তী পোষক কে (যে মানুষের মধ্যে তা ছড়িয়ে দেয়) তা স্পষ্ট নয়
• ছড়িয়ে পড়ে ঘনিষ্ঠ অনিরাপদ সংস্পর্শে “close unprotected contact”।
• বায়ু বাহিত সংক্রমণকে ছড়িয়ে পড়ার প্রধান মাধ্যম বলা হচ্ছে না।
• বেশিরভাগ মানুষে মানুষে সংক্রমণ ঘটেছে পরিবারের মধ্যে
• করোনাভাইরাস একটি নতুন রোগজীবাণু যার বিরুদ্ধে মানুষের শরীরে কোনও প্রতিরোধ ব্যবস্থা নাই। মানুষ অরক্ষিত।
• ১৮ বছরের নিচে যারা তাদের মধ্যে সংক্রমণ সম্ভাবনা কম
• ভাইরাসের কারণে কোন উপসর্গ ছাড়া সংক্রমণ শুরু হয়ে গুরুতর নিউমোনিয়া এমনকি মৃত্যু হতে পারে। সংক্রমণের ৫-৬ দিনের মধ্যে মৃদু শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা, জ্বর শুরু হতে পারে।

কী কী উপসর্গ কি পরিমাণে
• জ্বর ৮৭.৯ শতাংশ
• শুকনো কাশি ৬৭.৭ শতাংশ
• ক্লান্তি ৩৮.১ শতাংশ
• শ্বাসযন্ত্র থেকে কফ, শ্লেষ্মা, লালা নির্গমন ৩৩.৪ শতাংশ
• শ্বাসকষ্ট ১৮.৬ শতাংশ
• গলা ব্যথা ১৩.৯ শতাংশ
• মাথা ধরা ১৩.৬ শতাংশ
• শীত শীত ভাব ১১.৬ শতাংশ

• ৮১ শতাংশ রোগীর সংক্রমণ ছিল মৃদু থেকে মাঝারি মানের,
• ১৩.৮ গুরুতর
• ৬.১ সঙ্কটাপন্ন
• যারা ৬০ ঊর্ধ্ব আর যাদের অন্য অসুখ এদের সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক গণিত দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত

আজ ১৪ মার্চ ২০২০ খ্রিস্টাব্দ তারিখ শনিবার আন্তর্জাতিক গণিত দিবস উপলক্ষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। ইউনেস্কোর ঘোষণার পর এবছরই আজ প্রথমবারের মতো বিশ্বব্যাপী এ দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত ডিসিপ্লিনের উদ্যোগে ‘ম্যাথমেটিক্স ইজ এভরিহয়ার’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

দিবসের শুরুতে সকাল ১০টায় প্রধান অতিথি ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ড. সত্যেন্দ্রনাথ বসু একাডেমিক ভবনের সামনে থেকে শুরু করে হাদী চত্ত্বর হয়ে শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ প্রশাসনিক ভবনের সামনে দিয়ে পুনরায় ড. সত্যেন্দ্র নাথ বসু একাডেমিক ভবনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সিএসই ডিসিপ্লিনের স্মার্ট ক্লাসরুমে এক আলোচনা সভা ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. সর্দার ফিরোজ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথি ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ ইউনেস্কোকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন বিলম্বে হলেও তারা এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে এনে আন্তর্জাতিক গণিত দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর ফলে এ বিষয়টি বিশ্বব্যাপী আরও গুরুত্ব পাবে। তিনি বলেন গণিত এমন একটি বিষয় যা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত। বিশ্বব্রহ্মা-ের সবই গাণিতিক নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে। তাই গণিত চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত চর্চার প্রসারে একটি গণিত ক্লাব প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ছাত্রবিষয়ক পরিচালক প্রফেসর মোঃ শরীফ হাসান লিমন।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মোঃ আজমল হুদা। পরে ম্যাথমেটিক্স ইন বায়োলজি এন্ড মেডিসিন এবং পাওয়ার অব ম্যাট্রিক্স : এলিমেন্টারি ডিসকাশন উইথ অ্যাপ্লিকেশন শীর্ষক বিষয়ের উপরে রিসোর্স পার্সন হিসেবে বক্তব্য রাখেন যথাক্রমে প্রফেসর ড. মোঃ হায়দার আলী বিশ্বাস এবং প্রফেসর ড. এ আর এম জালাল উদ্দীন জামেলি। পরে কুইজ কম্পিটিশন অনুষ্ঠিত হয় এবং শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।