বাংলাদেশে একজন মনজুর মোহাম্মদ শাহারিয়ার

মানুষটাকে হয়তো অনেকেই চিনেন। নাম মনজুর মোহাম্মদ শাহারিয়ার, উপ-পরিচালক, জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর।যদি ভুলে না গিয়ে থাকেন তাহলে জানার কথা যে, গতবছর এই সময়ে আড়ংয়ে জরিমানা করে সারা দেশে আলোচনায় এসেছিলেন এই মানুষটি। তারপরই নাটকীয় ভাবে তাকে ঢাকার বাইরে বদলির ঘোষনা আসলে ফেসবুকে শুরু হয় প্রতিবাদের ঝড়। আর সেই চাপেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার বদলির আদেশ প্রত্যাহার করে ঢাকায় রাখতে বাধ্য হয়।

Image may contain: one or more people, people sitting and indoor

এরপর থেকে ঢাকার আনাচে কানাচে ঘুরে বেরিয়েছেন দেশের পণ্য ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের রাশ টেনে ধরতে। ভয়াভহ করোণাতেও তিনি নিজের দায়িত্বে ছিলেন অটল। জীবনের ঝুকি নিয়ে বাজারে বাজারে ঘুরে বেড়িয়েছেন। চেষ্টা করেছেন করোণা পরিস্থিতি ও রমজানকে কেন্দ্র করে কেউ যেন সিন্ডিকেট বাণিজ্য করতে না পারে। আদা সহ আরও যেসকল পণ্যের দাম এখন কিছুটা স্থিতিশীল, তা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র এই মানুষটার একক প্রচেষ্টায়।

কিন্তু এভাবে বাজারে বাজারে ঘুরাঘুরির ফলে আজ এই মানুষটাও করোণায় আক্রান্ত। যুদ্ধ করছে মৃত্যুর সঙ্গে। ঘন্টাখানে আগে তার একটা লাইভে দেখলাম করোণার যন্ত্রণায় গলা দিয়ে ঠিক মত আওয়াজও করতে পারছেন না। শুধু তিনি নিজেই না, তার স্ত্রী, সন্তান সহ পরিবারের সবাই এখন জীবন মৃত্যুর সন্দিক্ষণে লড়াই করছেন।

আমি জানি না আল্লাহ উনার ভাগ্যে কি রেখেছেন। তবে আল্লাহ না করুক উনাকে যদি আমরা হারিয়ে ফেলি, তাহলে নিশ্চিত থাকেন, সাধারণ জনগণের অনেক বড় একটা ক্ষতি হয়ে যাবে। কারণ, উপরের চাপকে উপেক্ষা করে সাধারণ জনগণের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিতে সবাই পারে না। এটা কেবল একজন শাহরিয়ার Monjur Shahriar এর পক্ষেই সম্ভব।

তাই আসুন সবাই মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আল্লাহ যেন শাহরিয়ার স্যার ও তার পরিবারকে আমাদের মাঝে আবারও সুস্থ্য ভাবে ফিরিয়ে দেন।

লেখা সংগৃহীত

একটু ইতিহাস পড়ি “একজন মুমিন ও ছাত্রলীগসহ প্রভাবশালি নেতাকর্মী”

মুমিন টার্গেট করে সম্পর্ক করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আবিদ আল হাসানের সাথে। তখন থেকেই নিজেকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পরিচয় দিতে থাকেন তিনি। সেসময় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের কাছে বেশ কয়েকজন অভিযোগ দেন, মুমিনের কার্যকলাপ ও কমিটিতে না থেকেও নাম ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে।

এর কয়েকমাস পর মুমিন সত্যি সত্যি জায়গা পেয়ে যান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে অনেকটা গণহারে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সেক্রেটারি জাকির হোসেন।

প্রতারণা ও জালিয়াতিতে অভিযুক্ত মুমিনের বড় উত্থানটি হয় মূলত ২০১৬ সালে, ছাত্রলীগের সোহাগ-জাকির কমিটি আসার পর।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন জানান, ‘মুমিনের ব্যাপারে আমিও কয়েকজনকে সাবধান করেছি। সে কমিটির না হয়েও পদ ব্যবহার করতো শুনতাম। কিন্তু, তৎকালীন প্রভাবশালী মন্ত্রীর পিএস-এর তদবিরের জন্যই তাকে মৌখিকভাবে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে ঘোষণা করি’।

Image may contain: 1 person, beard

মুমিন আরো বড় পরিসরে ছাত্রলীগে আত্মপ্রকাশ করেন দুই বছর আগে। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির পরিবর্তন হয়। সোহাগ-জাকির কমিটি বিদায় নিয়ে আসে শোভন-রাব্বানী কমিটি।

তখনকার বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আবিদ আল হাসান হল থেকে চলে যাওয়ার পর মুমিনও হল ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। কারণ কয়েকবছর ধরে তিনি যেসব শিক্ষার্থী, নেতা-কর্মীদের সাথে প্রতারণা করেছেন, যারা মুমিনের হম্বিতম্বি ও অত্যাচার সহ্য করেছেন তাদের আক্রোশের মুখে পড়েন মুমিন। হল ছেড়ে বাসায় উঠলেও ক্যাম্পাসে প্রভাব কমেনি। মুমিনের যাতায়াত তখন শুরু হয় বঙ্গবন্ধু হলের নর্থ ব্লকে। সেই ব্লকের ২০৮ নম্বর রুমে থাকতেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

Image may contain: 2 people, flower

রাব্বানীসহ ওই হলের বরিশাল অঞ্চলের অনেক নেতার সাথে সখ্যতা হয় মুমিনের। তাদের বাসায় ও পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু হলেও মাঝে মাঝে থাকতেন তিনি। হলের একাধিক সাবেক ছাত্রনেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্বরত একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা জানান, রাব্বানীর সাথে মূলত টাকার লেনদেন করেই সখ্যতা হয় মুমিনের। অন্তত ১৮ লাখ টাকা দিয়ে তখন কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহসভাপতির পদ পান মুমিন।

মুমিন যে কমিটিতে সহসভাপতি হন, ওই কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর শোভন ও রাব্বানীর বিরুদ্ধে রাস্তায় নামেন শতাধিক পদবঞ্চিত নেতা। তারা টিএসসিতে আমরণ অনশনও করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ওই কর্মসূচি থেকে সরে আসেন পদবঞ্চিতরা।

তবে এসব তথ্য অস্বীকার করেন ছাত্রলীগের সবশেষ পদত্যাগ করা সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। ফেসবুকের একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মুমিনের জন্য এতো বড় বড় নেতার তদবির ছিল যে তাকে আমি পদ দিতে বাধ্য হই।

কমিটি দেয়ার আগে তাকে একটি উপ-সম্পাদক করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু, এমন একজন তাকে সহসভাপতি পদ দেয়ার রেফারেন্স দেয় যে তার কথা উপেক্ষা করতে পারিনি’।

সুত্রঃ যমুনা নিউজ