এক মাসে ২০ কোটি টাকা খাবার বিল, অস্বাভাবিকই মনে হচ্ছে – শেখ হাসিনা বলেন

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের সেবাদানকারী চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এক মাসের খাবারের বিল ২০ কোটি টাকা কী করে হয়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।

এক মাসে ঢামেকে খাবার বিল ২০ কোটি টাকার কী করে হয়: প্রধানমন্ত্রী 

শেখ হাসিনা বলেন, বিরোধীদলীয় উপনেতা ঠিকই বলেছেন– এক মাসে ২০ কোটি টাকা খাবার বিল, অস্বাভাবিকই মনে হচ্ছে। এটি আমরা পরীক্ষা করে দেখছি। এত অস্বাভাবিক কেন হবে? যদি কোনো অনিয়ম হয় আমরা ব্যবস্থা নেব। এর আগে আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের হাসপাতালের খাবারের বিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্পূর্ণ সরকারি খরচে হোটেলে থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে থাকা-খাওয়ায় একমাত্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিসাব অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে বলে বিরোধীদলীয় উপনেতা যেটি বলেছেন, এটি স্বাভাবিকভাবেই অস্বাভাবিক মনে হয়। আমরা তদন্ত করে দেখছি, এত অস্বাভাবিক কেন হলো? এখানে কোনো অনিয়ম হলে আমরা তার ব্যবস্থা নেব।

PM Hasina: Dishonest traders responsible for rice price hike ...

এ সময় করোনাভাইরাস মোকাবেলায় আরও চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীর পদ সৃষ্টি ও নিয়োগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা আরও ৪ হাজার নার্স নিয়োগ দিচ্ছি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছি। শিগগিরই এ নার্স নিয়োগ দেয়া হবে।

সরকারপ্রধান বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের জন্য অল্প সময়ের মধ্যে দুই হাজার ডাক্তার ও ছয় হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছি। আরও দুই হাজার চিকিৎসকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। আমরা ৪ হাজার নার্স নিয়োগ দেব। সেই নির্দেশ আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ইতোমধ্যে দিয়েছি। তাদের শিগগিরই নিয়োগ দেয়া হবে। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে তিন হাজার টেকনিশিয়ানের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

,

করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড পুরো পাকিস্তান ক্রিকেট

করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড পুরো পাকিস্তান। এর প্রভাব পড়েছে ক্রীড়াজগতেও। করোনাভাইরাসে দেশটির আরও ৭ ক্রিকেটার আক্রান্ত হয়েছেন। ফখর জামান, ইমরান খান, কাশিফ ভাট্টি, মোহাম্মদ হাফিজ, মোহাম্মদ হাসনাইন, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ওহাব রিয়াজের শরীরে কোভিড-১৯ পজিটিভ আসে। এমন খবর নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

করোনাভাইরাস: আরও ৭ পাকিস্তানি ক্রিকেটার আক্রান্ত

এর আগে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ইংল্যান্ড সফরের আগে গত সোমবার করোনা পরীক্ষায় শাদাব খান, হায়দার আলী ও হারিস রউফের করোনা শনাক্ত হয়। পাকিস্তান ক্রিকেট দলের এক স্টাফ মালাঙ্গ আলীও এই ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে রয়েছেন।

এদিকে  আগামী আগস্টে ইংল্যান্ড সফরের জন্য ২৯ সদস্যের পাকিস্তান দল ঘোষণা করলেও, ১০ জন ক্রিকেটারের করোনা আক্রান্তের খবরে সফর নিয়েই এখন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।

আপাতত এই ১০ ক্রিকেটারকে স্বেচ্ছা-আইসোলশেনে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পিসিবি। এক বিবৃতিতে জানায়, ‘পিসিবির মেডিক্যাল প্যানেল এই ১০ জনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং তাদের উপদেশ দিয়েছে দ্রুত স্বেচ্ছা-আইসোলেশনে যাওয়ার।

Pakistan trio test positive for COVID-19 ahead of England tour

অন্য খেলোয়াড়দের মধ্যে আবিদ আলী, আসাদ শফিক, আজাহার আলী, বাবর আজম, ফাহিম আশরাফ, ফাওয়াদ আলম, ইফতিখার আহমদ, ইমাম-উল-হক, খুশদিল শাহ, মোহাম্মদ আব্বাস, নাসিম শাহ, সরফরাজ আহমেদ, শাহীন শাহ আফ্রিদি, শান মাসুদ, সোহেল খান ও ইয়াসির শাহ’র করোনা পরীক্ষা করে ফলাফল নেগেটিভ এসেছে।

ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তান আগামী মাসে তিনটি টেস্ট ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলবে। দু’দল প্রথম টেস্ট খেলবে লর্ডসে। পরের দুই টেস্ট হবে ম্যানচেস্টার এবং নটিংহামে। তিন টি-টোয়েন্টি হবে লিডস, কার্ডিফ ও সাউদ্যাম্পটনে।

Pakistan vs England Test Series: Inexperienced Pakistan Team ...

পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের মধ্যে এর আগেও তিনজনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। তার মধ্যে আছেন জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়া শহীদ আফ্রিদিও।

,

এক নজরে বিশ্ব ক্রিকেটের অলরাউন্ডার বয় সাকিব আল হাসান

বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রান সাকিব আল হাসান। এক কথায় বাংলাদেশ ক্রিকেটের রাজপুত্র। বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাস যখন ভবিষ্যতের প্রজন্মের দ্বারা সজ্জিত করা হবে, সাকিব আল হাসান আত্মপ্রকাশ করবে এবং তার প্রথম দুই দশকের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার হিসাবে আত্মপ্রকাশ করবে। সাকিব আল হাসান ১৯৮৭ সালের ২৪ মার্চ মাগুরায় জন্ম গ্রহন করেন। প্রথম দিকে সে ফুটবল খেলায় খুব পারদর্শী ছিলেন। তার বাবা ফুটবলার হওয়ার সুবাদে তিনি চেয়েছিলেন যে ফুটবলার হক কিন্তু পরে সাকিব আল হাসান ক্রিকেট কেই বেছে নিলেন তার পেশা হিসেবে।

ICC bans Bangladesh skipper Shakib Al Hasan in anti-corruption ...

 

ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে সাকিব আল হাসানের পথচলা শুরু হয় ২০০৬ সালে। সাকিব আল হাসান একজন অলরাউন্ডার । লেফট আর্ম অর্থোডক্স বোলিং এ এবং লেফট হ্যান্ডেড মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিব আল হাসানের প্রায় রয়েছে বারো হাজার এর কাছাকাছি রান এবং উইকেট রয়েছে ৬০০ এর কাছাকাছি।

World Cup 2019 - Shakib Al Hasan, Bangladesh World Cup team ...

আমাদের হয়ত সবার মনে আছে ২০০৭ বিশ্বকাপের কথা। যা ছিল সাকিব আল হাসানের প্রথম বিশ্বকাপ। সেই বিশ্বকাপেই আমরা ইন্ডিয়া কে হারিয়েছিলাম। এই ঐতিহাসিক ম্যাচ টিতে জিতার পিছনে সাকিবের অবদান ও কম ছিল না। বল হাতে দারুণ ইকোনমিতে বল করে গেছেন সাকিব আল হাসান এবং ব্যাট হাতে করেছিলেন হাফ সেঞ্চুরি। নিজের প্রথম বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে এমন পারফরম্যান্স আসলেই দূর্দান্ত।

Shakib Al Hasan just may be the world's best cricketer | Shakib Al ...

সাকিব ২০০৯ সালে বাংলাদেশের ভাইস কেপ্টেন হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। কেপ্টেন তখন মাশরাফি। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে যখন মাশরাফি ইঞ্জুরিতে পরেন তখন সাকিব ক্যাপ্টেন হিসেবে ১ম দায়িত্ব পান ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে । ২২ বছর বয়সী সাকিব আল হাসান এর অধিনায়কত্বে সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ বাংলাদেশ জিতে। যা সাকিবের প্রথম ওভারসিস সিরিজ জয়। সেই বছর সাকিব আল হাসান wisden cricketer’s Test player of the year হয়েছিলেন।

Wisden - West Indies v Bangladesh 2009

 

সাকিবের টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান হলো ২১৭ যা করেছিলেন নিউজিল্যান্ডের সাথে এবং টেস্টে তার বেস্ট বোলিং ফিগার ৭/৩৬ যা নিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের সাথে ২০০৮ সালে। সাকিব ২০১১ সালে টেস্টে ১ নাম্বার অলরাউন্ডার হয়েছিলেন প্রথম বার। ২০১২ সালে ওডিআইতে ১ নাম্বার অলরাউন্ডার হয়েছিলেন এবং ২০১৪ সালে টি২০ তে ১ নাম্বার অলরাউন্ডার হয়েছিলেন।

Shakib Al Hasan Shatters Records With 217 - The Highest Test Score ...

তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অর্ধ শতক রয়েছে ৮০ টি। শতক রয়েছে ১৪ টি এবং ডাবল সেঞ্চুরি রয়েছে ১ টি।
বাংলাদেশের এই পোস্টার বয় নামে খ্যাত সাকিব আল হাসানের দখলে রয়েছে অনেক অনেক রেকর্ড। রেকর্ড বয়ও বলা হয়ে থাকে মাঝে মাঝে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে করে চলেছেন একের পর এক রেকর্ড। তার রেকর্ড গুলো যেনো থামবার নয়।

Shakib Al Hasan soars at No. 3 even as Bangladesh slip to defeat ...

একটু দেখে আসি তার রেকর্ড গুলো।
১- ২০১৫ সালে ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে সাকিব আল হাসান ক্রিকেটের ৩ ফরমেটেই হয়েছেন ১ নাম্বার অলরাউন্ডার।
2- বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রথম বোলার যে কিনা টেস্টে ২০০ উইকেট এর মালিক।
৩- ওয়ান্ডে ক্রিকেটে সাকিব আল হাসান দ্রুততম খেলোয়াড় যিনি ব্যাট হাতে ৬০০০ রান এবং বল হাতে ২৫০ উইকেট তুলে নিয়েছেন।
৪- সাকিব আল হাসান একমাত্র ক্রিকেটার যিনি ওয়ান্ডে বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে ১০০০ রান ও বল হাতে ৩০ উইকেট নিয়েছেন।
৫- ২০১৯ বিশ্বকাপে তিনি আরেকটি রেকর্ড করেন তা হচ্ছে প্রথম খেলোয়াড় যিনি এক বিশ্বকাপে ৬০০+ রান ও ১০+ উইকেট তুলে নিয়েছেন।
৬- ২য় খেলোয়াড় হিসেবে যুবরাজ সিং এর পর বিশ্বকাপ আসরে এক ম্যাচে ৫০+ রান ও ৫ টি উইকেট নিয়েছেন তিনি
৭- টি২০ ক্রিকেটে ১০০০ রান ও ১০০ উইকেটের একদম কাছাকাছি আছে সাকিব আল হাসান।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এর বাইরেও বিভিন্ন দেশের টি২০ লীগে সমান জনপ্রিয়তা রয়েছে সাকিবের। এমন কোন টি২০ লীগ নেই যেখানে সাকিব আল হাসান খেলেন নি। বাংলাদেশের একমাত্র খেলোয়াড় যিনি কিনা সব দেশের টি২০ লীগ গুলোয় খেলার জন্য ডাক পান।

2015 World Cup: Shakib Al Hasan will miss this IPL 2015
IPL, BBL,CPL,PSL সবগুলোতেই খেলেছেন সাকিব এবং বেশ জনপ্রিয়তাও অর্জন করেছেন সাকিব। বলতে গেলে সাকিব আল হাসানের জন্যই বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের এখন এই অবস্থান। বিদেশী লীগগুলোতে শুধু খেলছেনই না রীতিমতো শাসন করে বেড়াচ্ছেন , ২০১৩ সালের CPL এ বারবাডোজ এবং ত্রিনিদাদ এর ম্যাচটার কথা নিশ্চয়ই সবার মনে থাকার কথা – কী খেলাটাই না দেখালো সাকিব , ১ টা না ২ টা না টি-২০ ম্যাচেও ৬ টা উইকেট , অবিশ্বাস্য ব্যাপার।

Litton Das and Shakib Al Hasan fly to Caribbean to join in CPL ...

এছাড়াও IPL এ আরো কতো কতো ম্যাচ সাকিব একা হাতে জিতিয়েছে কোলকাতাকে তার কোন হিসাব নেই। এত ট্যালেন্টেড একজন প্লেয়ার তবুও একটা বা দুইটা ম্যাচ খারাপ খেললে মানুষ তার সমালোচনা করে “সাকিব খেলা পারে না, সাকিব নিজের জন্য খেলে, দেশের জন্য খেলে না”
কেনো ভাই? আপনারা এমন কেন?
যেই মানুষটা তার জীবন দিয়ে দেশের জন্য এত সম্মান বয়ে আনে তাকে তার প্রাপ্য সম্মানটুকু ও কি আপনারা দিতে পারেন না?

Shakib Al Hasan: Bangladesh's global ambassador

২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি তে বাংলাদেশ টিম একটি মাত্র ম্যাচ ভালো খেলেছিল – নিউজিল্যান্ড ম্যাচটা । শুধু এই ম্যাচ টাতেই তামিম ভালো স্টার্ট দিতে ব্যার্থ হয় আর আমাদের মিডেল অর্ডার কলাস্প করে , এক পর্যায়ে বাংলাদেশের স্কোর ৩৩/৪ (যখন ম্যাট হেনরির ইন-সুইংয়ে মুশফিক ক্লিন বোল্ড হয়) তখন সাকিব ম্যাচের হাল ধরে মাহমুদউল্লাহ এর সাথে মিলে আর গড়ে ২২৪ রানের সেই মহাকাব্যিক জুটি । যা বাংলাদেশের ওডিয়াই তে ২য় সর্বোচ্চ জুটি। সেই ম্যাচে সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ উভয়েই করেছিলেন সেঞ্চুরি। তাদের কারণেই আমরা ম্যাচ টা ৫ উইকেটে জিতে যাই ।

No rift with Shakib: Riyad | The Daily Star

২০১৮ সালে নিদাহাস ট্রফিতে আমরা দেখেছিলাম সাকিবের প্রতিবাদী ক্যারেক্টার, যখন পর পর ২ বলে ইসুরু উদানা ২ টা বাউন্সার দেয় এবং তখন আম্পায়ার ২য় বলটি নো বল দিতে অস্বীকৃতি জানায় ঠিক তখনই সাকিব মাঠের বাইরে নেমে আসে এবং ৪র্থ আম্পায়ার এর সাথে কথা বলার চেষ্টা করে, কিন্তু আম্পায়ার তার কথা মানতে নারাজ, এবং সাকিব তখন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কে ডাক দিয়ে বলে ড্রেসিং রুমে ফিরে আসতে, যত কিছুই হোক সাকিব অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে নারাজ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

Nidahas Trophy 2018: When furious Shakib Al Hasan asked Bangladesh ...

এবার আসি অন্য একটা টপিক এ
আমরা জানি সাকিব আল হাসান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হয়েছেন ২ বার। প্রথম বার হয়েছিলেন ৬ মাসের জন্য খারাপ অঙ্গভঙ্গি এর জন্য। ২য় বার নিষিদ্ধ হন ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর। নিষিদ্ধ হয়েছেন ২ বছরের জন্য। কারণ তাকে ম্যাচ পাতানোর কথা বললে সে রাজি না হলেও আকসু কে বিষয় টি জানান নি। পরে দোষ স্বীকার করে নেয়ায় ১ বছর নিষিদ্ধ কমিয়ে দেয়া হয়েছে৷ এখনো রয়েছেন তিনি নিষেধাজ্ঞায়। ক্রিকেটের রাজপুত্র ক্রিকেটে ফিরবেন আরো ৪ মাস পরে।

Shakib Al Hasan posts message of realisation after being banned

২০১৯ এর মার্চ মাসে যখন আকসু সাকিব এর সাথে বৈঠক করে তখনই তারা সাকিবকে জানায় তাঁর নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারটা
সকল ঘটনা জেনেও মানুষটা জুন-জুলাই মাসে বিশ্বকাপের মতো এত বড় মঞ্চে নিজের ক্যারিয়ারের সম্ভবত সবচেয়ে ভালো পারফরম্যান্স টা করলো ৬০৬ রান, একইসাথে ১১ উইকেট বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন পারফরম্যান্স আর কোন প্লেয়ার করতে তো পারেনি, ভবিষ্যতেও পারে কি না যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

Shakib Al Hasan And Bangladesh Outshine Big Nations At Cricket ...

২০১৯ সালের বিশ্বকাপে সাকিব কেমন পারফরম্যান্স দেখিয়েছে তা আমরা সবাই ই জানি , ওয়ান ম্যান আর্মি হয়ে দলকে টেনেছে একা ৷ ৮ ম্যাচে ২ টিতে সেঞ্চুরি, ৫ টিতে হাফ সেঞ্চুরি আর ১ টায় ৪১ রান করে ৮ ম্যাচে মোট রান ৬০৬. যেখানে তার এভারেজ ৮৬+। যা ২০১৯ সালের সকল খেলোয়াড়দের এভারেজ থেকে বেশি। বল হাতেও দারুন ছন্দে ছিলেন । এরপরে আমরা সকলেই জানি যে বিশ্বকাপে সাকিবের ৩ নাম্বার এ খেলা নিয়ে কোচ, প্লেয়ার কেওই রাজি ছিলেন না একমাত্র মাশরাফি আর সাকিব নিজে ছাড়া। এই নিয়ে মাশরাফি বলেন যে ‘ আমি ছাড়া কেও চায়নি সাকিব ৩ এ খেলুক। আমি শুধু চেয়েছি। কারণ সে এতটাই আত্নবিশ্বাসী ছিল যে সে ৩ এ ভাল খেলবে। আর সাকিব যদি ৩ এ ভাল খেলতে না পারে আমি জানি সবার আগে সাকিবই কষ্ট পাবো’

Mashrafe: We will play 2023 WC final under Shakib's captaincy ...

এযাবৎ যত বিশ্বকাপ হয়েছে সকল বিশ্বকাপের প্লেয়ার অফ দ্যা টুর্নামেন্ট এর পরিসংখ্যান হিসাব করলেও দেখা যায় যে সাকিবের থেকে ভালো কোন পারফরম্যান্স ছিলো না, তবুও ২০১৯ বিশ্বকাপে তিনি প্লেয়ার অফ দ্যা টুর্নামেন্ট হননি
কারণ, কারণ ঐ একটাই, বাংলাদেশ সেমিতে খেলতে পারেনাই। এর আগের সকল বিশ্বকাপের প্লেয়ার অফ দ্যা টুর্নামেন্ট যেই দলের প্লেয়াররা পেয়েছে সেসব দল অন্ততপক্ষে সেমিফাইনালে উঠেছে। শুধু সেমিফাইনাল দিয়েই কি একটা প্লেয়ারের সম্পূর্ণ টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্স বিচার করা উচিত?

World Cup 2019: Shakib Al Hasan's surge

মাঠের বাইরের চাপ সামলে কিভাবে মাঠের ভিতরে একদম সিম্পলী সবকিছু করা যায়, তা হয়তো সাকিবের চেয়ে কেউ ভালো উপলব্ধি করতে পারবে না। মানুষটাকে আল্লাহ তায়ালা বিশেষ কোন ক্ষমতা দিয়ে দিয়েছেন হয়তোবা যাতে করে এভাবে তিনি এত এত সমালোচনা সামলে নিজের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারেন।

আমরা চাই ১ বছরের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাকিব ফিরুক স্বরুপে , তার ব্যাটে আবারো ঝরুক ২০১৯ বিশ্বকাপের মতো ঝরনা , তার স্পিন বিষে কপোকাত হোক বিপক্ষের ব্যাটসম্যান। ২০২০ তো দেখতে দেখতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে আর মাত্র ৪ মাস বাকি আমাদের সুপারস্টারের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে উঠার।

CWC 2019 Power Rankings: Shakib Al Hasan moves to top, Lockie ...

সামনে ২০২৩ বিশ্বকাপ , সাকিবের গর্জনে কেপে উঠুক সারা বিশ্ব । বাংলাদেশ এমন একজন অলরাউন্ডার আর কবে পাবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই, যে কিনা ব্যাটিংয়ে নামলে একজন পূর্ণ ব্যাটসম্যান আবার বোলিং এ নামলে একজন পূর্ণ বোলার ।

Once the best all-rounder, now banned – The rise and fall of ...

রিসেন্টলি আমাদের দেশে ও অনেক গুণী মানুষদের বায়োপিক বানানোর প্রস্তুতি চলছে , বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই পোস্টারবয়কে নিয়েও একটা বায়োপিক বানানো এখন সময়ের দাবী মাত্র। সাকিব কে নিয়ে লিখতে বসলে একটা মুভির স্ক্রিপ্ট লিখা যায় । কিন্তু আজ আর না , ২০২৩ বিশ্বকাপের জন্য শুভকামনা জানিয়ে আজকের মতো এখানেই শেষ করলাম
শুভ হোক সাকিবের আগামীর পথচলা , শুভ হোক বাংলাদেশ ক্রিকেটের আগামীর পথচলা

ধন্যবাদ সবাইকে।

লিখেছেন

Jisan Khandakar

লিখতে সাহায্য করেছেন –Saidur Rahman Rafi 

চীন-ভারত সংঘর্ষ নিয়ে জরুরি আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চার হেভিওয়েট মন্ত্রী

লাদাখে গালওয়ান উপত্যকায় চীন-ভারত সংঘর্ষ নিয়ে জরুরি আলোচনায় বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চার হেভিওয়েট মন্ত্রী। মঙ্গলবারের ক্যাবিনেট মিটিংয়ে ছিলেন ভারতীয় সেনার চিফ জেনারেল এমএম নারাভানে। এদিকে বুধবার নিয়ন্ত্রণরেখায় চীনের আগ্রাসনের ক্ষেত্রে তা মোকাবিলা করতে সেনাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিল ভারত।

India China border dispute: PM Modi calls for all-party meeting on ...

শান্তি বজায় রাখার সম্পূর্ণ প্রচেষ্টা করা হলেও সীমান্তে ভারতের এলাকায় চীনের কোনো রকম প্রবেশ ও আগ্রাসন মেনে নেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিল ভারত। তাই পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ভারতীয় সেনাকে দেওয়া হল অনুমতি।

ভারত-চীন সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার রাতে তার চার মন্ত্রীকে নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। লাদাখে সীমান্তে চীনের সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে ভারতীয় সেনার মৃত্যুর পর বর্তমানে সীমান্তের উদ্বেগজনক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন তারা।

Indian Army-Chinese PLA soldiers face-off in North Sikkim. Minor ...

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও অর্থমন্ত্রীর নির্মলা সীতারমণ। আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় সেনার চিফ জেনারেল এমএম নারাভানে।

Indian Army now world's largest ground force as China halves ...

সূত্রের খবর, রাত ১০টা নাগাদ মন্ত্রীদের নিয়ে আলোচনায় বসেন প্রধানমন্ত্রী। সীমান্তের উত্তেজনা, পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ, সেনাবাহিনীর অবস্থান ইত্যাদি নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত আলোচনা করেন তারা।

সোমবার গভীর রাতের বিরোধপূর্ণ কাশ্মীর অঞ্চলের লাদাখ সীমান্তে ভারত ও চীনা সৈন্যদের মধ্যে সংঘর্ষে ভারতীর সেনার নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে। সেইসঙ্গে ভারতের আরও ১১০ জন সেনা গুরুতর আহত হয়েছে। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা কর্তৃপক্ষের। এদিকে ভারতের দাবি দুই পক্ষের সংঘর্ষে চীনের অন্তত ৪৩ জন সেনা নিহত হয়েছেন।

,

কুয়েতে গ্রেফতার সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল যেভাবে এম পি হলেন

রাজনীতিতে পোড়খাওয়া প্রবীণ নেতারা এমপি হতে না পারলেও হঠাৎ বিদেশ থেকে ‘উড়ে এসে জুড়ে বসেই’ হয়ে গেছেন বাংলাদেশের আইন প্রণেতা বা জাতীয় সংসদ সদস্য। শুধু কী তাই? এই ‘এমপি’র স্ত্রীর শখ পূরণে তাকেও সংসদে এনেছেন একই পথে। ‘দলবিহীন’ স্বামী-স্ত্রী এমপি হতে অবশ্য ‘কোটি-কোটি’ টাকা লগ্নি করতে হয়েছে বলে শুরু থেকেই আলোচনায় ছিল।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র এমপি কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল ও সেলিনা ইসলাম দম্পত্তির ঘটনা। কুয়েতে অর্থ ও মানব পাচার মামলায় অভিযুক্ত হয়ে পুলিশের হাতে আটক ও রিমান্ডে থাকা বাংলাদেশের আইন প্রণেতা পাপুল এখন বিশ্ব মিডিয়ায় আলোচনায় এসেছেন।

বিডিটুডে.নেট:বিশ্বসভায় হাসিনার ...

জন্মের পর পাপুলের বেড়ে ওঠা ঢাকা ও চট্টগ্রামে। ১৯৯২ সালে তার ভাই বিএনপি নেতা কাজী মঞ্জুরুল আলমের হাত ধরেই মরুভূমির দেশ কুয়েতে পাড়ি জমান তিনি। মরুর বুকে গড়ে তোলেন টাকার পাহাড়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দেড়-দুই বছর আগে ২০১৬ সালে লক্ষ্মীপুরে আবির্ভূত হন কাজী পাপুল। স্থানীয় একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দেন এলাকায় জনসেবা করতে এসেছেন তিনি। নিজে মুখেই বলেন, ‘জন্মের পর প্রথম এসেছি। রায়পুরকে জেলায় রূপান্তরিত করতে চাই।’ এরপর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জামশেদ কবিরের হাত ধরে দান-খয়রাত শুরু করেন। স্থানীয় কিছু নেতা ও যুবকদের মোটরসাইকেল কিনে দিয়ে নিজের দলভারী করেন। কথায় কথায় টাকা পয়সা ঢেলে এলাকায় অল্প দিনে মানবতার সেবক বনে যান।

স্ত্রী-কন্যা-শ্যালিকাসহ পাপুলের ...

২০১৮ সালে তিনি লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে বিশাল শোডাউন করে ধানমন্ডি দলীয় সভানেত্রীর কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। আর তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম সিআইপি নৌকা পেতে কুমিল্লা-১ (মেঘনা-দাউদকান্দি) মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় দুজনই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হন। লক্ষ্মীপুর-২ আসনটি আওয়ামী লীগ মহাজোট প্রার্থীকে ছেড়ে দেয়। মহাজোটের প্রার্থী করা হয় জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোহাম্মদ নোমানকে।

কে এই কাজী পাপুল?

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হলেও ‘এমপি’ হওয়ার দৌড়ে থেমে থাকেননি পাপুল। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন তিনি। আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা-কর্মী মহাজোটের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালায়। পাপুলের শখের ‘এমপি’ হতে বাধা হয়ে দাঁড়ান জাতীয় পার্টির নোমান। তার সঙ্গে সমাঝোতার চেষ্টা করেন পাপুল। অবশেষে সফল হন। ১৯ ডিসেম্বর হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘বিজ্ঞপ্তি’ দিয়ে ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।

প্রিয় | ইন্টারনেট লাইফ

লক্ষ্মীপুর-২ সংসদীয় আসন ২৭৫ এর মহাজোট মনোনীত প্রার্থী মো. নোমান মহাজোটের বৃহত্তর স্বার্থে আওয়ামী লীগ দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শহীদ ইসলামের সমর্থনে তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। আপনাদের জানা আছে যে, মো. শহীদ ইসলাম আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিত নেতা ও সক্রিয় কর্মী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বৃহত্তর স্বার্থে এই আসনের বিজয় দলের পক্ষে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এরপর ২২ ডিসেম্বর শহরের তাজমহল সিনেমা হলের সামনে দলের জরুরি সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু প্রকাশ্যে বলেন, ‘বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নোমান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।…অনেক টাকা, অনেক টাকা।’ তার এই বক্তব্য নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সভায় নেতাদের মধ্যে বিতন্ডা ও হাতাহাতিও হয়।

তখনকার জাপা দলীয় এমপি নোমানের ব্যক্তিগত সহকারী শাহ আলম নিজেও তখন গণমাধ্যমের কাছে বলেছিলেন, ‘পাপুলের কাছ থেকে ১২ কোটি টাকা নিয়ে তিনি (নোমান) সরে দাঁড়িয়েছেন বলে আমরা শুনেছি। তবে ওনাকে (নোমানকে) কয়েক দিন ধরে ফোনেও আমরা পাচ্ছি না।’ আর পাপুল তখন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘গত আড়াই বছরে আমি এলাকায় বিপুল কাজ করেছি। প্রায় ৩২ কোটি টাকা মানবসেবায় খরচ করেছি।’ নোমানের সঙ্গে টাকার লেনদেনের বিষয়ে পাপুল তখন বলেছিলেন, ‘উনি ফাইন্যান্সিয়ালি (আর্থিকভাবে) দুর্বল।

নিজের স্বপ্ন পূরণ হলেও নৌকার মনোনয়ন বঞ্চিত স্ত্রী সেলিনা ইসলামকে সংসদে আনার মিশনে নামেন হঠাৎ এমপি হওয়া পাপুল। প্রথমে স্বতন্ত্র কোটায় এমপি করার মিশনে নামেন তিনি। বর্তমান সংসদে তিনজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য থাকায় কিছুটা হোঁচট খান। কারণ সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হতে হলে ছয়জন এমপির ভোট প্রয়োজন হয়। সে সময়ে আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার পরামর্শে এমপিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন পাপুল। এবারও তার সাফল্য হাতে ধরা দেয়। বউকে এমপি বানাতে তার স্বপ্ন পূরণ হয়। এতে অবশ্য কোটি কোটি টাকার খরচ করতে হয়েছে বলেও পাপুলের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে অবৈধ ভিসা ব্যবসার দায়ে পাপুলের বিরুদ্ধে কুয়েত সিআইডি রিপোর্ট করলে গা ঢাকা দিতে দেশে ফিরে আসেন তিনি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তখন খবর আসে ‘কুয়েত থেকে লাপাত্তা পাপুল।’ এবার তিনি করোনার মধ্যেই কুয়েত ফিরে নিজেকে জাহির করতে ৯ মার্চ ফেসবুক লাইভে আসেন এবং সেখানে দম্ভ নিয়ে বলেন, ‘আমি কাচের পাহাড় তৈরি করিনি, আমি পাথরের পাহাড় তৈরি করেছি… এটা ভাঙবে না, কেউ ভাঙতে পারবে না।’ গত শনিবার রাতে তিনি কুয়েত সিআইডি পুলিশের হাতে আটক হয়ে রিমান্ডে রয়েছেন। বিষয়টি শুধু বাংলাদেশই নয়, বিশ্ব মিডিয়ায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের একজন আইন প্রণেতার অর্থ ও মানব পাচারের ঘৃণ্য অপরাধটির।

অর্থ ও মানব পাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেফতার হওয়া লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে পাপুলের স্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিন প্রধানকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এমপি পাপলু ও তার স্ত্রী-কন্যার ...

গত শনিবার রাতে কুয়েতের মুশরিফ আবাসিক এলাকার বাসা থেকে পাপুলকে গ্রেফতার করে কুয়েত সিআইডি। রবিবার তাকে আদালতে হাজির করে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানো হয়। সোমবার তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয় কুয়েতের আদালত। কুয়েতে মুদ্রা ও মানব পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে কুয়েতি আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তারই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রবাসী ৫ বাংলাদেশি। সাক্ষীদের সবাইকে কুয়েতে নিয়েছিলেন পাপুল। কুয়েতি আদালতকে তারা বলেন, ‘কুয়েত আসার জন্য তারা পাপুলকে তিন হাজার কুয়েতি দিনার করে দিয়েছেন। এ ছাড়া প্রতি বছর আকামা নবায়নের জন্য দিয়েছেন ৩০০ দিনার বা তারও বেশি।’

এমপি পাপুল রিমান্ডে, দেয়া হবে ...

এশিয়ার সবচেয়ে বড় বটগাছ ঝিনাইদহ জেলায়

কালীগজ্ঞ শহর হতে প্রায় ১০কিঃমিঃ পূর্ব দিকে এর অবস্থান । বর্তমানে মালিয়াট ইউনিয়নের বেথুলী মৌজার সুইতলা-মল্লিকপুরে বর্তমানে ১১ একর জমি জুড়ে বিদ্যমান এই বটগাছটি এশিয়ার বৃহত্তম বটগাছ বলে খ্যাত।

বটগাছ এমনিতেই বড়। বিশাল জায়গা নিয়ে এ গাছ তার ডালপালা বিস্তৃত করে। কিন্তু এই জায়গা যদি দুই একর নিয়ে হয় তাহলে সেই গাছ কত বড়! হ্যাঁ, এমনই একটি বটগাছের অবস্থান ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সুইতলা মল্লিকপুরে। ঝিনাদহের কালীগঞ্জ উপজেলা শহর থেকে চিকন পিচের রাস্তা মল্লিকপুর ছুঁয়েছে। ১২ কিলোমিটার এগিয়ে গেলে চোখে পড়বে সবুজের পাহাড়। যে সবুজের শেষ নেই। এটি সুইতলা মল্লিকপুরের বটগাছ।

৮নং মালিয়াট ইউনিয়নের বেথুলী মৌজায় বর্তমানে ১১ একর জমি জুড়ে রয়েছে এর অস্তিত্ব। এর উচ্চতা আনুমানিক ২৫০ থেকে ৩০০ ফুট। বর্তমানে বটগাছটি ৫২টি বটগাছে রূপ নিয়েছে। বিবিসির জরিপে ১৯৮৪ সালে এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম খ্যাত এ বটগাছের অবস্থান ও নামকরণ নিয়ে রয়েছে নানা জটিলতা এবং রয়েছে কিংবদন্তী। কারও কাছে সুইতলার বটগাছ, কারও কাছে সুইতলা মল্লিকপুরের বটগাছ আবার কারও কাছে বেথুলীর বটগাছ বলে এটি পরিচিত।

বিবিসির জরিপে একে এশিয়ার সবচেয়ে বড় বটগাছ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আর ২০০৯ সাল থেকে সামাজিক বন বিভাগ যশোর এ বটগাছটির ব্যবস্থাপনা করে আসছে। গাছটির উত্পত্তি সম্পর্কে স্থানীয়রা কোনো সুনিদির্ষ্ট তথ্য দিতে পারেনি, তবে প্রায় দুইশ’ থেকে তিনশ’ বছর পুরোনো বলে ধারণা করা হয়। গাছটি কে বা কারা লাগিয়েছে তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য কেউ না দিতে পারলেও জানা যায়, এখানে আগে কুমারদের বসতি ছিল।

কুমার পরিবারের কোনো একটি কুয়োর মধ্যে আজকের বটগাছটির জন্ম। স্থানীয়দের মুখে গাছটি সম্পর্কে কথিত আছে ক’বছর আগে কুদরতউল্লা নামে একজন গাছের ডাল কাটলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। শুরু হয় রক্তবমি। কুদরতের স্ত্রী বট গাছ আগলে ধরে কান্নাকাটি করে। স্বামীর প্রাণ ভিক্ষা চায়। অবশেষে তার স্বামী সুস্থ হয়ে ওঠে। এ রকম অনেক গল্প মল্লিকপুরবাসীদের কাছে শোনা যায়।

বটগাছটি কেন্দ্র করে পাশেই বাংলা ১৩৬০ সালের দিকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বেথুলী বা মল্লিকপুরের বাজার। এই বাজারের প্রথম দোকানদার ছিলেন মল্লিকপুর গ্রামের বেলায়েত আলী, বেথুলী গ্রামের স্বরজিত কুমার সাহা, মমতাজ ডাক্তার, মল্লিকপুরের মুনছুর বিশ্বাস ও মথুরাপুর গ্রামের হামিদুল। বটতলায় কালীপূজার জন্য একটি স্থায়ী পিঁড়ি তৈরি করা হয়েছে। চাপরাইল গ্রামের গৌর পদ অধিকারী এবং হাজারী লাল অধিকারীর আর্থিক সহায়তায় এটি নির্মিত হয়।

এলাকাবাসী জানান, অযত্ন-অবহেলা, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও নানামুখী অত্যাচারের কারণে ঐতিহ্যবাহী এ বটগাছের অস্তিত্বসবচেয়ে আজ নষ্ট হতে চলেছে। মল্লিকপুর গ্রামের বেলায়েত মিয়া বেঁচে থাকা পর্যন্ত তিনি এসব দেখাশোনা করতেন। তিনি নিজ সন্তানের মতো ভালোবাসতেন এ বটবৃক্ষকে। যে কারণে তিনি এই বটগাছের কাছে সর্বপ্রথম দোকান দেন এবং বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। স্থানীয়রা আরও জানান, ১৯৮২ সালের পূর্ব পর্যন্ত এশিয়া মহাদেশের মধ্যে বৃহত্তম বটগাছ বলে পরিচিতি ছিল কলকাতার বোটানিকেল গার্ডেনের একটি গাছ।

পরবর্তীতে বিবিসির এক তথ্যানুষ্ঠান প্রতিবেদনে প্রচার হয়-‘মল্লিকপুরের বটগাছই এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম। ১৯৯৮ সালের দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার তত্কালীন নির্বাহী কর্মকর্তা সুশেন চন্দ্র রায়ের সহযোগিতায় সেখানে একটি ফুলের বাগান তৈরি করা হয়। বটগাছের চারপাশ ঘিরে প্রাচীর নির্মাণের ব্যবস্থাও করেন তিনি। এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তর বটগাছের ঐতিহাসিক দিক বিবেচনা করে অনেক স্থান থেকে প্রতিনিয়ত দর্শনার্থীরা আসেন। এর গুরুত্ব বিবেচনা করেই ১৯৯০ সালেই বটগাছের পাশেই প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি রেস্ট হাউজ নির্মাণ করা হয়।

মল্লিকপুর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুর রাজ্জাক জানান, এ বট গাছটির বয়স কত তা আশেপাশের গ্রামের লোকজন বলতে পারে না। তিনি মুরব্বিদের কাছে শুনেছেন ৩শ’ বছরের বেশি হবে। যে স্থানে মূল বটগাছের শুরু ওই স্থানের আশেপাশে কুমার সম্প্রদায়ে বাস ছিল। সেনদের জায়গায় একটি পাতকুয়া ছিল। কোনো পাখি হয়তো কুয়োর ওপর বটের বীজ এনে ফেলে। সে বীজ থেকে চারা গজায়। জায়গাটি ছিল জঙ্গলাকীর্ণ। আস্তে আস্তে বেড়ে ওঠে বিস্তৃর্ণ জায়গা জুড়ে ফেলে গাছটি। বাড়তে বাড়তে এক সময় প্রায় দুই একর জায়গা দখল করে নেয় সেটি। পরিচিতি পায় এশিয়ার সর্ববৃহত্ বটগাছ হিসবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ গাছের গোড়াতে পূজা-অর্চনা শুরু করে। লোকসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বটগাছ এলাকায় নির্জনতা থাকে না। গাছের বৃদ্ধি ঘটে প্রোপরুট বা বোয়ার ওপর ভর করে।

 

এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহত্ এ বটগাছটির ঐতিহাসিক দিক বিবেচনা করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন দর্শনার্থী আসেন এখানে। গুরুত্ব বিবেচনা করে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ বটবৃক্ষটির পাশে একটি রেস্ট হাউস নির্মাণ করেন ১৯৯০ সালে। বিস্তৃত বটগাছটির দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাখির কলরব, ছায়াঘেরা শীতল পরিবেশ মুগ্ধ করে দর্শনার্থীদের।

কিভাবে যাওয়া যায়:
ঝিনাইদহ থেকে বাস অথবা সিএনজি দ্বারা এই প্রাচীন বটগাছটি দেখতে যাওয়া যায় ( ঝিনাইদহ জেলা সদর হতে ২৫ কি.মি)
ধন্যবাদ।

সংগৃহীত