মিরপুরের ডেলটা হসপিটালের করোনায় আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর বিস্তারিত জানালেন পুত্র

পিতার মৃত্যু এবং সন্তানের ব্যর্থতা-
আমি কখনো ভাবি নি যে আমার পিতার মৃত্যুর ঘটনা আমাকে এই ভাবে লিখতে হবে কিন্তু কিছু মিডিয়ার মিথ্যা রিপোর্ট দেখে আমি বাধ্য হলাম ফেসবুকে কিছু সত্য প্রকাশ করতে।

গত ১৬ তারিখে আব্বা আসুস্থ বোধ করলে আমাদের ড্রাইভার ঐ দিন বিকালে উনাকে কল্যানপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসে। ঐ সময় আমরা ভাইরা সবাই অফিসে। আমি অফিস থেকে বাসায় এসে শুনলাম ডাক্তার সাসপেক্ট করছে, উনার করোনা হয়েছে এবং কোভিড ১৯ টেস্ট এর জন্য সাজেস্ট করেছে। অতঃপর ঐ রাত্রেই আমরা উক্ত টেস্ট এর জন্য IEDCR এর হান্টিং নাম্বারে ফোন দেওয়া শুরু করি।

প্রায় দেড় ঘন্টা পর তাদের সাথে আমরা কম্যুউনিকেশন করতে সমর্থ্য হই, তারা আমাদেরকে জানায় যেহেতু অসুস্থ ব্যাক্তি বিদেশ ফেরত না এবং বিদেশ ফেরত কোনো ব্যাক্তির সংস্পর্শে উনি আসেননি সেহেতু এই টেস্ট উনার জন্য প্রযোজ্য নয়। আমি তাদেরকে বলেছিলাম, উনি নিয়মিত মসজিদে যান এবং ঐখান থেকে এই ভাইরাস আসতে পারে কিনা। তারা আমাদের বলেলেন যে, এই ভাইরাস বাংলাদেশের কমিউনিটিতে মাস লেভেলে এখনো সংক্রমিত হয়নি। সুতরাং আপনারা চিন্তা করবেন না, এটা সাধারন শ্বাস কষ্টের প্রব্লেম।

ঐ রাত্রেই আনুমানিক ১০.৩০ এ আমি উনাকে শ্যামলীর একটি বড় হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং আমাদের পরিচিত একজন স্পেশালিষ্ট ডক্টরকে দেখাই। উনি আমাকে বলেন, রুগীর নিউমোনিয়া হয়েছে, উনাকে নিউমোনিয়ার ট্রিটমেন্ট দিতে হবে, তবে বাংলাদেশের কোনো হাসপাতাল এই রুগির ভর্তি নিবে না, আপনারা বাসায় ট্রিটমেন্ট করেন। আমি ঐ রাত্রে বাসায় চলে আসি এবং আব্বাকে নেবুলাইজার এবং মুখে খাওয়া এন্টিবায়োটিক দিতে থাকি। পরের দিন ১৭ তারিখে দুপুরে আমি আব্বাকে নিয়ে যাই শ্যামলীর ঐ হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে।

তারা রুগি দেখে বলেন যে, রুগির অবস্থা ভালো না, উনাকে আইসিউ সাপোর্ট দিতে হবে কিন্তু তাদের আইসিউ তারা দিতে পারবে না। এরপর আমি কেয়ার হাসপাতালে কথা বলি। ওরা বলে ওদের আইসিউ খালি আছে। আমরা দ্রুত আব্বাকে নিয়ে কেয়ার হাসপাতালে যাই এবং আইসিউতে ভর্তি করি। ১৫ মিনিট পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের বললেন, এই রুগী তারা রাখতে পারবে না। অতঃপর আমরা রুগী নিয়ে কল্যানপুরের একটি হাসপাতালে যাই। তারা আমাদেরকে কেবিন দিয়ে সাহায্য করে কিন্তু তাদের আইসিউ খালি নেই। আমি তখন স্কয়ারে ফোন দিলাম আইসিউ এর জন্য।

কিন্তু স্কয়ার আমাদেরকে বললো, রুগী ছাড়া শুধু কাগজ পত্র নিয়ে আসতে। তারা কাগজ পত্র দেখে ভালো মনে করলে রুগী ভর্তি করবে। রাত আনুমানিক ১২.৩০ এ হাসপাতালের ডাক্তার আমাকে বললেন এই রুগীর আইসিউ লাগবে, আপনারা দ্রুত আইসিউ এর ব্যবস্থা করেন। আমি বিভিন্ন হাসপাতালে কথা বলতে থাকি, কোথাও আইসিউ খালি নেই। অতঃপর ডেল্টা হাসপাতাল তাদের আইসিউ দিতে রাজি হয়। আমি এবং আমার ছোট ভাই রাত্রে ৪ টার সময় আব্বাকে নিয়ে ডেল্টাতে আসি এবং দুপুর ১২টার পর থেকে আব্বা লাইফসাপোর্টে চলে যান।

১৮ তারিখ দুপুর থেকে আমরা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ IEDCR এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। অতঃপর ১৯ তারিখ বিকালে IEDCR রাজি হয় এবং রাত্রে টেস্ট করে এবং পরের দিন ২০ তারিখ দুপুরে তারা আমাদেরকে জানায় যে রিপোর্ট পজেটিভ। আমাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলে ১৫ দিন।

রিপোর্ট পজেটিভ আসার পর থেকে ডেল্টা হাস্পাতাল আমাদের প্রেশার দিতে থাকে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়ার অনুমোদন দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমরা অনুমতি না দিয়ে তাদেরকে বলতে থাকি ট্রিটমেন্ট চালিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু তারা আর রুগীর কাছেও যায় নি এবং আমাদেরকে আইসিউ এর ভেতর ঢুকতেও দেয় নি। যাই হোক আমার আব্বু আবশেষে ২১ তারিখ ভোর তিন টার সময় ইন্তেকাল করেন।

আমরা সন্তানরা ব্যর্থ পিতার সঠিক ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা করতে এবং এমনকি তার জানাজাতে উপস্থিত থাকতে। সন্তান হিসেবে, একজন পুত্র হিসেবে এর চেয়ে কঠিন কষ্ট আর কিছুই হতে পারে না। আমরা বুকে পাথর বেঁধে বাসায় অবস্থান করছি সরকারের আইন মেনে ১৫ দিনের জন্য। কিন্তু কিছু পেইজ এবং ফ্রন্ট লাইনের মিডিয়া আমাদেরকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে যে, আমার ভগ্নিপতি বিদেশ থেকে আমাদের বাসায় এসেছে, যেটা সম্পুর্ণ মিথ্যা কথা।

আমার দুই ভগ্নিপতি। বড় বোন এবং তার হাজবেন্ড চিটাগং এর দুটি সরকারি কলেজের অধ্যাপক। অন্য ভগ্নিপতি জাপান থাকে। সে গত এক বছরের মধ্যে দেশে আসেনি। আমার বাবা যেদিন আইসিউতে লাইফ সাপোর্ট এ চলে যান সে দিন মানে, ১৯ তারিখ আমার বড় বোন এবং দুলাভাই চিটাগং থেকে আমাদের বাসায় আসেন এবং বর্তমানে তারাও আমাদের সাথে হোম কোয়ারেন্টাইন পালন করছে।

আমাদের এই বিপদের সময় দয়া করে আমার পরিবার সম্পর্কে মিথ্যা রিপোর্ট করবেন না। এখন পর্যন্ত আমাদের পরিবারের বাকি সদস্যরা সুস্থ আছে। কারো মধ্যে করোনার লক্ষন দেখা দেয়নি। আমার ছোট ভাই এবং ড্রাইভার অসুস্থ বোধ করায় কভিড ১৯ টেস্ট করানো হয়েছে যার ফল নেগেটিভ এসেছে। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন যেন আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করেন এবং হেফাজত করেন বাংলাদেশের সবাইকে
আমিন..

ঢাকার মধ্যে করোনা সন্দেহে শুধুমাত্র এই হাসপাতাল গুলোতে যোগাযোগ করুন

ঢাকার মধ্যে করোনা সন্দেহে শুধুমাত্র এই হাসপাতাল গুলোতে যোগাযোগ করুনঃ

১।সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল
(Infectious Disease Hospital)
ঠিকানাঃমহাখালী বাস স্ট্যান্ড এর সামনে ,ঢাকা।

২।কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল
ঠিকানাঃ এম ই এস বাস স্ট্যান্ড এর সামনে,
হোটেল রেডিসনের বিপরীত পাশে,ঢাকা।
ফোন নাম্বারঃ +880255062350, 55062201,
55062349

৩।কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল
ঠিকানাঃ ঈশাখা এভিনিউ, রাজউক কলেজের পাশে, উওরা,ঢাকা
মোবাঃ 01999-956290

৪।ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতাল
ঠিকানাঃ বাবু বাজার ব্রিজ,পুরান ঢাকা
ফোনঃ 02- 57390860

৫।রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল
ঠিকানাঃ মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের বিপরীতে,ঢাকা

৬।মিরপুর-১ মাতৃসদন হাসপাতাল

এই ৬টি হাসপাতালেই কেবল আপনারা যোগাযোগ করুন কারন অন্য হাসপাতাল গুলোতে করোনা চিকিৎসার জন্য যথাযথ সামগ্রী নেই। তাই হয়রানীর শিকার না হয়ে উপরোক্ত হাসপাতালে যান।।

আর করোনার লক্ষন গুলো আপনাদের মাঝে থাকলে
আইইডিসিআর (IEDCR) এ খবর দিন।
যোগাযোগঃ
16263
01550064901-05
01401184551
01401184554-56
01401184559-60
01401184563
01401184568
01927711784-85
01937000011
01937110011

খোলা চিঠি!!! করোনা সংকটে গর্ভবতী মায়েদের বলছি

দেশের এই সংকটকালীন সময়ে সবচেয়ে বেশি সংকটে আছি আমরা ডাক্তাররা, পেশাগত কারণে। কিন্তু সাধারন জনগণের মধ্যে বাচ্চা এবং বৃ্দ্ধের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি সংকটে আছেন আপনারা গর্ভবতীরা। গর্ভকালীন সময়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এই সময় যেকোন ভাইরাস সংক্রমনের আশঙ্কা সাধারনের চেয়ে ৫.৭ গুন বেশি। জটিল কোন প্রবলেম না থাকলে এক দু’মাস চেকআপ না করালে আপনার তেমন ক্ষতি হবে না। বরং চেকআপ করতে গিয়ে চেম্বার, ডায়াগনষ্টিক সেন্টার বা হাসপাতাল থেকে আপনি নিয়ে যেতে পারেন ভাইরাস।

চেকআপের ডেট আছে। কি করবেন?

অসুবিধা নেই। এটা আদালতের দেয়া ডেট না। না আসলে আপনাকে পুলিশ গিয়ে ধরে নিয়ে এসে জেলে পুরবে না।
তাহলে কি করবেন?
১)আগের প্রেসক্রিপশনের ওষুধগুলোই চালিয়ে যান।
২)বাসায় প্রেসার মাপা মেশিন থাকলে মাঝে মাঝে নিজেরাই প্রেসার চেক করুন ।
৩)বাচ্চার নড়াচড়া খেয়াল রাখুন।
৪)ওজন বাড়ছে কি না খেয়াল রাখুন। বাসায় ওজন মাপার মেশিন থাকলে প্রতি মাসে ওজন দেখে নিন।
৫)নতুন কেন সমস্যা দেখা দিলে বা কোন অসংগতি মনে হলে ফোনে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন।
৬)সকল সামাজিকতাকে পাশ কাটিয়ে একা একা নিজের মত থাকুন। আপনার সঙ্গে তো একজন আছেই সবসময়। আপনার ভবিষ্যত সন্তানের সাথে কথা বলুন। তার সুরক্ষার জন্য নিজেকে আড়ালে রাখুন।
৭)প্রয়োজন ছাড়া কোনভাবেই ঘরের বাইরে যাবেন না।
৮)মাঝে মাঝে হাত-মুখ সাবান-পানি বা স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করুন। বারবার মুখে-চোখে হাত দিবেন না।
৯)বাইরে থেকে কেউ আসলে সে পরিচ্ছন্ন না হওয়া পর্যন্ত দুরত্ব রক্ষা করে চলুন।
১০)হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার নিজে মেনে চলুন। এবং বাসার সকলকে এটি মনে চলতে বাধ্য করুন।
১১)বাড়ীতে কারো সর্দি-কাশি হলে তাকে কিছুটা আলাদা করে রাখুন। কোনভাবেই তার কাছাকাছি যাবেন না। এমনকি আপনার বাচ্চা হলেও না। তাকে পরিবারের অন্য কোন সদস্যের কাছে দেখভালের জন্য রাখুন।
১২)আপনার সর্দি-কাশি হলে সাথে সাথে ডাক্তারের কাছে না গিয়ে ফোনে আপনার ডাক্তারকে উপসর্গগুলো জানান। তাঁর পরামর্শ মোতাবেক ওষুধ পথ্য খান।

কোভিড১৯ যেহেতু একটি নতুন সংক্রমন, এই সম্পর্কে জানি আমরা অল্পকিছুই। আমরা এখনও জানিনা, আপনি এই ভাইরাস আক্রান্ত হলে আপনার গর্ভস্থ সন্তানের কোন ক্ষতি হবে কি না বা সে এই সংক্রমন বহন করবে কি না! তবে অল্প কিছু গর্ভবতীর সময়ের পূর্বেই ডেলিভেরি হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। সেটির সঠিক কারন জানা যায়নি।

ডেলিভেরির সময় কি করবেন?

আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নির্দিষ্ট হাসপাতালে ডেলিভেরি করান। তবে সংক্রমন এড়াতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
ডেলিভেরির সময় বা পরে আত্মীয়-স্বজনের ভিজিট প্রত্যাহার করুন। বাচ্চা দেখতে চাইলে ছবি তুলে অনলাইনে পাঠিয়ে দিন কিংবা সেটি সম্ভব না হলে সন্তানের সুস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে তাদের অপেক্ষা করতে বলুন। বাচ্চা একটু দেরি করে দেখলে মহাভারত শুদ্ধ বা অশুদ্ধ কোনটাই হবে না। বরং এই মুহূর্তে আপনার এবং বাচ্চার শুদ্ধ থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ।

বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়াবেন কি না ?

ভাইরাসটি নতুনভাবে সনাক্ত হওয়ার কারণে এ সম্পর্কে আমরা জানিনা যে এটি বুকের দুধের মাধ্যমে সন্তানের শরীরে প্রবেশ করে কি না! তবে যেহেতু বুকের দুধ বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, আপনারা বুকের দুধ নিয়মমতোই খাওয়াবেন। তবে বাচ্চাকে স্পর্শ করার পূর্বে নিয়ম মেনে হাত পরিষ্কার করে নিবেন ।অযথা বাচ্চার চোখে-মুখে বা শরীরে হাত দিবেন না।

একটা বিষয় মনে রাখবেন, যেকোন নতুন রোগ বা সংক্রমন হলে সেটি সম্পর্কে বিস্তারিত গবেষণালব্ধ ফল পেতে সময় লাগে। অল্প কিছু স্যাম্পল পরীক্ষা করে এমনিয়োটিক ফ্লুইড(বাচ্চার থলিতে থাকা পানি) এবং বুকের দুধের মধ্যে করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়নি। কিন্তু এই দুই মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ায় না এটা নিশ্চিত করে বলতে আরও গবেষণা আবশ্যক, যা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। কাজেই আমরা সবটাকেই আমলে নিয়ে সাবধানে থাকবো।

ভাল থাকুন সন্তানধারী সকল মা এবং তাদের সন্তানেরা।

ডা.ফাহমিদা শিরীন নীলা
এমবিবিএস; এফসিপিএস(অবস্ এন্ড গাইনী), ফিগো ফেলো(ইটালী)
গাইনী বিশেষজ্ঞ
বগুড়া।
২১/০৩/২০২০ ইং।

এইচএসসি পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৭১ দশমিক ৮৫ শতাংশ ও জিপিএ–৫ বেড়েছে

২০১৯ সালে আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শুধু এইচএসসি পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৭১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এর মধ্যে ফলের সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৪১ হাজার ৮০৭ জন। অর্থাৎ, ১০ বোর্ডে যতজন জিপিএ–৫ পেয়েছেন, এর বেশির ভ।গই এইচএসসি পরীক্ষার্থী।

ফলাফল জানার লিঙ্ক 

মাদ্রাসা ও কারিগরি মিলিয়ে এবার মোট জিপিএ–৫ পেয়েছেন ৪৭ হাজার ২৮৬ জন।

আজ সকাল ১০টায় গণভবনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ও সব বোর্ডের চেয়ারম্যানরা নিজ নিজ বোর্ডের ফলাফল প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ফলাফল সম্পৃক্ত কিছু তথ্য তুলে ধরেন।

গতবার আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে গড় পাসের হার ছিল ৬৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এইচএসসিতে জিপিএ–৫ পেয়েছিলেন ২৫ হাজার ৫৬২ জন।  এবার এইচএসসিতে পাসের হার ও জিপিএ–৫ দুটোই বেড়েছে।

অন্যদিকে, এবার মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৮৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং জিপিএ–৫ পেয়েছেন ২ হাজার ২৪৩ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএম) পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৮২ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং জিপিএ৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২৩৬ জন।

এবার আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে ১০টি বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৯ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৯ লাখ ৮৮ হাজার ১৭২ জন।

দুপুর সাড়ে ১২টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত ফলাফল প্রকাশ করবে। আর পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অনলাইনে একযোগে ফল প্রকাশ করা হবে বেলা একটায়।

গত ১ এপ্রিল এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল।

সংসদ ভোটে নির্বাচিত হয়নি, ভেঙ্গে দিয়ে নির্বাচন চাই — রুমিন ফারহানা

যেকোনো রাজনীতিবিদের জন্যে সংসদে যাওয়া, সংসদে বসে দেশের কথা, দেশের মানুষের কথা বলা একটি স্বপ্ন। সুতরাং আজকে প্রথমবারের মতো সংসদে যাওয়া সেই স্বপ্নের পূরণ। এটি আমার জন্যে একটি আনন্দের দিন। কিন্তু, একই সঙ্গে এই দিনটি আমার জন্যে অত্যন্ত লজ্জার এবং কষ্টের।

“লজ্জার এবং কষ্টের এ কারণে যে আমি এমন একটি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছি যে সংসদটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। এই সংসদের সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই। আমি খুশি হবো যদি আমার সাংসদ হওয়ার মেয়াদ আর একদিনও না বাড়ে। এবং সংসদটি ভেঙ্গে দিয়ে অতি দ্রুত একটি নির্বাচন দেওয়া হয়। যে নির্বাচনটি হবে জনগণের, অংশগ্রহণমূলক, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ।”

রোববার, জুন ৯, শপথ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের বললেন একাদশ জাতীয় সংসদের ৩৫০ নং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা।

রুমিন ফারহানা বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং প্রয়াত ভাষা সৈনিক অলি আহাদের মেয়ে।

নারী নির্যাতনে নির্মূল করা তো দূরে থাক, অনেক সময় সরকারকে উসকানি দিতে দেখেছি : রুহুল কবির রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন,নারী নির্যাতনে নির্মূল করা তো দূরে থাক, আমরা অনেক সময় সরকারকে উসকানি দিতে দেখেছি।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শনিবার সকালে মানববন্ধনে রুহুল কবির রিজভী এ কথা বলেন ।

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে চলন্ত বাসে নার্স শাহিনুর আক্তার তানিয়াকে গণধর্ষণ ও হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকার নারী। অথচ কী দুর্ভাগ্যের বিষয়- পাইকারি হারে নারী নির্যাতন চলছে। যখন থেকে তারা ক্ষমতায় এসেছেন তখন থেকে তারা এটা করছে। আর নারী নির্যাতন নির্মূল করার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু নির্মূল করা তো দূরে থাক, আমরা অনেক সময় উসকানি দিতে দেখেছি।

নারী ও শিশু নির্যাতনের বিষয়ে তিনি বলেন, যারা এ কাজগুলো করছে, তারা অধিকাংশ ক্ষমতাসীন দলের লোক। আর ক্ষমতাসীন দলের লোক বলেই তারা পার পেয়ে যাচ্ছে। তারা সরকারের আনুকূল্য পাচ্ছে। আর আনুকূল্য পাচ্ছে বলেই এ সামাজিক অপরাধ সরকার ঠেকাতে পারছে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে রিজভী আহমেদ বলেন, আজ সালাউদ্দিন আহমেদের গুম দিবস। আজকে তিনি ভারতে কেনো? কারণ তিনি মেধাবী ছাত্র ছিলেন। পরে তিনি রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন, মন্ত্রী হয়েছেন এবং কয়েকবার এমপিও ছিলেন। কিন্তু এক অন্ধকারের মৃত্যুকূপের মধ্যে তাকে ফেলে রাখা হয়েছে। আজ সেখানে তিনি এক মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এখন তার নামই হয়ে গেছে গুম সালাউদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘গত আড়াই হাজার বছরের মধ্যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য একজন জীবন দিয়েছিলেন। তিনি হলেন, গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস। তিনি তার কথা ও সত্য উচ্চারণ থেকে দ্বিধান্বিত হননি। আর আড়াই হাজার বছর পরে আরেক জন, তিনি হলেন-বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য কারাগারে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিন পার করছেন। এরপরও তার মাথাকে নত করা যায়নি।

যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মামলার বিষয়ে রিজভী আহমেদ বলেন, সব মামলায় টুকুর জামিন হয়ে গেছে। এরপরও টুকুর মুক্তি ও নিস্তার নেই। কারণ মুক্তি পেলেই তিনি সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলবে। তাই আবারও তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে।

আজকে ক্ষমতাসীনরা গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে বলেও মন্তব্য করেন রুহুল কবির রিজভী।

মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনটির নেত্রী জেবা খান, হেলেন জেরিন খান প্রমুখ।

মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করে মহিলা দল।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র নির্বাচিতদের শপথ নেয়ার বিষয়ে দলের অবস্থান ব্যাখ্যা

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা, মুক্তি এবং গণতন্ত্র পুনুরুদ্ধারের সংগ্রামের অংশ হিসাবে সংসদে অংশ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র মহাসচিব
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জাতীয় রাজনীতির এই সংকটময় জটিল প্রেক্ষিতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা, মুক্তি এবং গণতন্ত্র পুনুরুদ্ধারের সংগ্রামের অংশ হিসাবে আমাদের দল সংসদে অংশ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ ২৯ এপ্রিল ২০১৯,সোমবার, বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির এই সিদ্ধান্তের কথা জানান বিএনপি মহাসচিব ।

সংবাদ সম্মেলনে পঠিত লিখিত বক্তব্য-

“ বাংলাদেশের নির্বাচনে ইতিহাসে গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন ছিল একটি কলঙ্কজনক প্রহসনের নির্বাচন। যা ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলও প্রহসনের নির্বাচন হিসাবে চিহ্নত করেছে। এই নির্বাচনের ফলাফল ছিল সম্পূর্ণ সাজানো এবং দেশের দল মত নির্বিশেষে সকল ভোটারাই এই নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার থেকে জোর পূর্বক বঞ্ছিত হয়েছেন। যা ক্ষমতাসীন মহলের কারো কারো মুখ থেকেও স্বীকার উক্তি হিসাবে বেরিয়ে এসেছে।

নজীরবিহীন সন্ত্রাস, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ সর্বপরি নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে ভোটের দিনের আগের রাতেই ভোটের ফলাফল একতরফা ভাবেই তাদের পক্ষে সাজিয়েছে সরকার। আমরা সংগত কারণেই ভোটাধিকার বঞ্ছিত জনগণের ক্ষোভের ধারাবাহিকতায় এই নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছিলাম এবং জাতীয় সংসদে আমাদের মনোনীত বিজয়ী প্রার্থীদের শপথ গ্রহণ না করার জন্য আহŸান করেছিলাম।

আমাদের দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আমরা বিশ^াস করি নির্বাচনই ক্ষমতা পরিবর্তনের একমাত্র পথ। কিন্তু ক্ষমতাসীন মহল নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আজ এমনভাবে দলীয় করণ করেছে যে, গোটা নির্বাচনী প্রতিষ্ঠান আজ ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতা প্রলম্বিত করার একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার অন্য সকল পদ্ধতিও সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছে। বিশ^বাসীর কাছে এই সরকার তার গ্রহণযোগ্যতার জন্য ভোটারবিহীন এই সংসদকে সচল দেখাতে চায়। এইটুকুই কেবল আজ গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার নুন্যতম সুযোগ হিসাবে বিরোধী জনমতের জন্য অবশিষ্ট আছে।

আমরা বরাবরের মতই দাবী করছি, দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনরায় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে জনগণের সংসদ নির্বাচন করাই এই সংকট সমাধান করার একমাত্র পথ। তাই একদিকে নতুন নির্বাচনের দাবি ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীদের মুক্তি এবং মামলা প্রত্যাহারের অব্যাহত দাবি অন্যদিকে দেশের চলমান অর্থনৈতিক, আইন-শৃংখলা ও সামাজিক চরম সংকট যথাক্রমে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি, শেয়ার বাজার কেলেংকারী, ব্যাংক লুট, নারী নির্যাতন, গুম-খুন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ-এর বিরুদ্ধে একটি কার্যকরী ও জোরালো গণআন্দোলন গড়ে তোলার জন্য আমাদেরকে নতুনভাবে উদ্দীপ্ত হতে হবে ।

ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে সংসদে কথা বলার সীমিত সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংসদ ও রাজপথের সংগ্রামকে যুগপৎভাবে চালিয়ে যাওয়াকে আমরা যুক্তিযুক্ত মনে করছি। জাতীয় রাজনীতির এই সংকটময় জটিল প্রেক্ষিতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা, মুক্তি এবং গণতন্ত্র পুনুরুদ্ধারের সংগ্রামের অংশ হিসাবে আমাদের দল সংসদে অংশ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আশা করি দেশবাসীকে সাথে নিয়ে আমাদের এই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় অবিলম্বে একটি অবাধ জাতীয় নির্বাচন আদায় করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশনেত্রীসহ সকল রাজবন্দীকে মুক্ত করে আমরা আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঘোষিত জাতীয় ঐক্যমতের বাংলাদেশ গড়ে তুলব।”

পরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করছে সরকার — মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার চক্রান্ত করে সুপরিকল্পিত ভাবে গণতান্ত্রিক সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করেছে।

সোমবার, এপ্রিল ২২, জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক ও বর্তমান ছাত্রফোরাম আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্ররা বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে দেশের জন্য ভূমিকা রেখে এসেছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য জনগণকে সম্পৃক্ত করে গনআন্দোলন করতে হবে। সেই আন্দোলনেও সারাদেশের ছাত্রদের একত্রিত করে ছাত্রদলকে ভূমিকা রাখতে হবে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল খালেক হাওলাদারের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসাদুজ্জামান রিপন, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ডাকসুর সাবেক জিএস ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভুইয়া জুয়েল, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মজনু, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহিন প্রমুখ।

বিএনপি মহাসচিব শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলায় নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, আমরা সবসময় সকল ধরনের সন্ত্রাসী হামলার বিপক্ষে। আমরা এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এধরণের সন্ত্রাসী হামলা বিরুদ্ধে সারা বিশ্বে আন্দোলন গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির নির্বাচিতদের শপথ নেওয়ার প্রচারণা ভিত্তিহীন: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিনিময়ে বিএনপি থেকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঘোষিত নির্বাচিতরা শপথগ্রহণ করবেন বলে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে তা অসত্য ও ভিত্তিহীন।

শনিবার (২০ এপ্রিল) কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর বাড়িতে একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় নির্যাতিত বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের আগে গণমাধ্যমকে তিনি একথা জানান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে পাঠানোর অর্থ হলো পরিকল্পিতভাবে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা। সরকার ইচ্ছা করে বেগম খালেদা জিয়ার জামিন বিলম্বিত করছে। যার কারণে তিনি ১৪ মাস ধরে কারাগারে। সরকার দলীয় অনেকে সাজাপ্রাপ্ত হয়েও মুক্ত এবং মন্ত্রিত্ব করছেন।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবাইদা রহমানের তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এক দেশের আদালত আরেক দেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধের নির্দেশনা দিলে তা বন্ধ হয় কিনা আমার জানা নেই।’

এর আগে কুমিল্লার বুড়িচংয়ে এক পথসভায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা যে চিন্তাভাবনা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছি, আওয়ামী লীগ সেই চেতনা ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা গণতন্ত্রকে শেষ করে দিয়েছে। মানুষের অধিকারকে হরণ করেছে। আজকে তারা পিস্তল, বন্দুকের জোরে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়।’

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন– সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কবির মুরাদ, মনিরুল হক চৌধুরীর মেয়ে ড. সায়মা ফেরদৌস।

 

খালেদার চিকিৎসার নামে প্রতারণা করছে সরকার — রুহুল কবির রিজভী

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার নামে সরকার প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। সোমবার দুপুরে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে ঝটিকা মিছিল পূর্বক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা এখন চরম পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেয়ার নামে সরকার প্রতারণা করে যাচ্ছে। দেশনেত্রীর পছন্দের হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে বরং যেখানে উন্নত চিকিৎসা দূরের কথা চিকিৎসার আধুনিক সরঞ্জামাদিও নেই সেই হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার নামে জনগণকে বারবার ধোকা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, এটি বেগম জিয়ার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলারই সামিল। এই খেলা বন্ধ করে অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তার পছন্দের হাসপাতালে সুচিকিৎসার সুযোগসহ নিঃশর্ত মুক্তির আবারও জোর দাবি জানাই।

বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে আজ দুপুর দেড়টায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে রাজধানীর বাডাস্থ সুবাস্ত টাওয়ারের সামনে থেকে উত্তর বাড্ডার ফুজি টাওয়ার পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।